আলোচিত

টঙ্গীতে থেমে নেই মাদকের বিস্তার, নেপথ্য যুবলীগ নেতা আজাহার

বার্তাবাহক ডেস্ক : টঙ্গীর শীর্ষ মাদক কারবারি বাচ্চু নেই। কিন্তু মাদকের কারবার চলছে বহাল তবিয়তে। একটি সিন্ডিকেট শাসকদলের কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক স্থানীয় এক নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে দেদার মাদকের কারবার চালিয়ে যাচ্ছে বলে জোর অভিযোগ উঠেছে। বলা হচ্ছে, সেই নেতার পেশাগত তেমন কোনো পরিচয় না থাকলেও মাদক কারবারিদের প্রশ্রয় দেওয়ার সুবাদে কাঁড়ি কাঁড়ি অর্থ আর বিত্ত বৈভবের মালিক হয়েছেন।

এক সময়ের শীর্ষ মাদক কারবারি বাচ্চুর নিয়ন্ত্রণে ছিল টঙ্গীর মাদক কারবার। গত ২৩ মে মঙ্গলবার ভোরে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয় বাচ্চু। আর কয়েক ডজন মামলার আসামি শীর্ষ মাদক কারবারি সুজন এতদিন পুরো টঙ্গী দাপিয়ে বেড়ালেও মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের কারণে গা-ঢাকা দিয়েছে।

সেই ফাঁকা মাঠ দখল করে নিয়েছে বাচ্চুর অন্যতম সহযোগী স্বপন, দাঁতভাঙা দুলাল, বাবুল, শাহাবুদ্দিন দাবাড়। তারা এখন টঙ্গীতে দেদার চালিয়ে যাচ্ছে মাদকের কারবার। বিশেষ করে, ব্যাপক প্রভাবশালী হয়ে উঠছে দাঁতভাঙা দুলাল।

সরেজমিনে প্রাপ্ত তথ্যাদি থেকে দেখা গেছে, দাঁতভাঙা দুলাল এখন বসবাস করছে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আজাহার উদ্দিনের বাড়িতে। সপ্তম তলার ওই বাড়ির পঞ্চম তলায় থাকেন দুলাল। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানের ভয়ে বস্তি থেকে তিনি উঠে এসেছেন অনেকটা নিরাপদ আশ্রয়ে। এদিকে মাস দুয়েক আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অভিযানে বজলুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বিপুল

পরিমাণ মাদকসহ আটক হন। সে সময় জিজ্ঞাসাবাদে বজলুর রহমান স্বীকার করেন, তিনি দীর্ঘদিন মাদক কারবারে যুক্ত। থাকেন টঙ্গী বাজার এলাকার আজাহার উদ্দিনের বাড়িতে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের একটি ভিডিওচিত্র রয়েছে এই প্রতিবেদকের কাছে।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, টঙ্গী বাজার এলাকার একটি চোলাই মদের বার ও গোডাউন রয়েছে। বিশেষ ক্যাটাগরিতে এই মদ বিক্রির লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে দলিত শ্রেণির কাছে চোলাই মদ বিক্রির জন্য। কিন্তু বিধি লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে যার-তার কাছে চোলাইসহ বিদেশি মদও বিক্রি করা হচ্ছে। বারের মালিক মাদকের আস্তানা খোলার জন্য সাহায্য নেন আজাহার উদ্দিনের। আজাহার তার শ্যালকের শ্বশুরবাড়ি ভাড়া নেওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। আর সেই মদের বারের ম্যানেজার বাদল, মকবুল ও লিটন ভাড়া থাকেন আজাহারের বাড়ির ষষ্ঠ তলায়।

আজাহার উদ্দিন আগামী ২৬ জুন অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ২০১১ সালে উত্তরার চাঞ্চল্যকর সৌরভ হত্যা মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামি জসিম মাতবর এবং ২০০৯ সালে র‌্যাবের হাতে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার অস্ত্র ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন রাসেল ওরফে মসলা রাসেলকে তার নির্বাচনী প্রচারে দেখা গেছে। তার নির্বাচনী প্রচার চালানোর একটি ছবি এসেছে আমাদের হাতে। তাতে দেখা যায়, এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি দাঁতভাঙা দুলালও আছেন আজাহারের পাশে দাঁড়িয়ে। মানুষের কাছে ভোট চাইছেন এই মাদক কারবারি।

মাদক কারবারিদের সঙ্গে আজাহার সরকারের সখ্য নিয়ে তার নিজ দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরাও ক্ষুব্ধ। টঙ্গীর ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম বলেন, মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান শুরুর আগে আজাহার উদ্দিনের নিয়ন্ত্রণে মাদক কারবার চলত। তাকে এ কাজে স্থানীয় যুবলীগের অনেকে সহায়তা করেন। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট।

এসব বিষয়ে আজাহার উদ্দিন বলেন, ‘আমার নির্বাচনী প্রচারে কোনো অপরাধী বা মাদক ব্যবসায়ীকে সঙ্গে নিয়েছি, সেটি কেউ বলতে পারবেন না। আর বজলুরকে আমি চিনিও না। তাকে গ্রেপ্তারের পর পিটিয়ে আমার নাম বলতে বাধ্য করেছে আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। আমি কোনোভাবেই মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই।’

স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে যুক্ত একাধিক প্রবীণ ব্যক্তি জানান, পৈতৃক সূত্রে আজাহারের ছিল মাটির ঘর আর সামান্য কিছু জমি। এখন তিনি বিপুল অর্থ সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা নেই।

সূত্রমতে, পৈতৃক ভিটায় সাততলা আলিশান বাড়ি ছাড়াও উত্তরার দিয়াবাড়ি বটতলা এলাকায় ৬ কাঠার ওপর নির্মিত তার তিনতলা বাড়ি নির্মাণাধীন এবং কাপাসিয়া চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় ২০ বিঘার ওপর বিশাল বাগানবাড়িসহ নামে-বেনামে অঢেল সম্পদ রয়েছে তার।

 

সূত্র:আমাদের সময়

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close