আলোচিতজাতীয়

বাংলাদেশে মাদকের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা

বার্তাবাহক ডেস্ক : বাংলাদেশে মাদকের চাহিদা আছে তাই সরবরাহও আছে। কিন্তু সরবরাহ বন্ধ করা না গেলে চাহিদা বাড়তেই থাকবে। আর বাংলাদেশকে মাদক পাচারের রুট হিসেবেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

২০১৫ সালের মে মাসে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি তরল কোকেনের চালান ধরা পড়ে। খানজাহান আলি লিমিটেড নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ঠিকানায় বলিভিয়া থেকে আসা একটি কন্টেনারে ১০৭ ড্রাম সানফ্লাওয়ার তেলের মধ্যে দুই ড্রাম তরল কোকেন পাওয়া যায়। পরে ল্যারেটরি টেস্টেও কোকেনের ব্যাপারে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় দায়ের করা মাদক আইনের মামলাটি এখন আদালতে বিচারের অপেক্ষায় আছে। বাংলাদেশে কোকেন সংক্রান্ত অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড।

এই ঘটনার পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান বাংলাদেশের মাদক চোরাচালান এবং ব্যবসা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাতে বাংলাদেশকে মাদক চোরাচালানের রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

তাতে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়া বা এশিয়ার বাজারে বিভিন্ন ধরনের মাদক নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ রুট হিসেবে বাংলাদেশকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের বন্দরগুলোর দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার কারণেই চোরাচালানের রুট হিসেবে এ পথ পাচারকারীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।

বাংলাদেশের পুলিশ কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুজ্জামানকে উদ্ধৃত করে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, ‘‘ভারতে পাচার করার পথে চট্টগ্রামে এ সব কোকেন ধরা পড়ে।’’ তিনি বলেন, ‘‘এ চালানের কাগজপত্র থেকে জানা গেছে, চালানটি ভারতের যে কোনো বন্দরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল। এ অঞ্চলে ব্যাপকহারে মাদক চোরাচালান কিছু দিন ধরে বেড়েছে। তিন মাসে দক্ষিণ অ্যামেরিকা ও আফ্রিকা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ কোকেন ভারতের বাজারে প্রবেশ করেছে। এছাড়া একই সময়ে কাঠমান্ডুতেও প্রচুর পরিমাণে কোকেন জব্দ করা হয়েছে।

তবে জাতিসংঘ মনে করছে, দক্ষিণ এশিয়াকে রুট হিসেবে ব্যবহার করে আরও প্রচুর কোকেন পাচার হচ্ছে, যা ধরাই পড়ছে না। গার্ডিয়ান বলছে, সম্ভবত ল্যাটিন অ্যামেরিকার একটি সংঘবদ্ধ চক্র যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বাজারে নিজেদের চোরাচালানের রুট আড়াল করতেই দক্ষিণ এশিয়াকে পাচারের পথ হিসেবে ব্যবহার করছে। এ অঞ্চলের বন্দরগুলোর দুর্বল নিরাপত্তাব্যবস্থার সুযোগ নিয়েই এ কাজ করছে তারা। এছাড়া মেক্সিকোর সিনালোয়া অথবা প্যাসিফিক কার্টেলের মতো চক্রগুলো এশিয়াকে মাদকের একটি বড় বাজার হিসেবে দেখছে।’’

২০১২ সালে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২৬ কেজি হেরোইনের একটি চালান ধরা পড়ে। এর কয়েক বছর আগে এই বিমানবন্দরেই ২০ কেজি হেরোইনের একটি চালানসহ একজন ব্রিটিশ নাগরিক গ্রেপ্তার হন। ওই মামলায় ব্রিটিশ নাগরিকের শাস্তিও হয়। পরে অবশ্য সাধারণ ক্ষমায় মুক্ত হয়ে তিনি দেশে ফিরে যান। এলিয়েডা ম্যাকগর্ড নামের ওই বৃটিশ তরুণী ছিলেন হোরোইন বহনকারী। মূল পাচারকারিদের তখন চিহ্নিত করা যায়নি। আর তখনও মাদক চোরাচালানের আন্তর্জাতিক রুট হিসেবে বাংলাদেশের নাম উঠে আসে।

১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশে এখন মাদকসেবীর সংখ্যা ৭০ লাখ। আর এখানে এখন মাদক হিসেবে ব্যবহারের শীর্ষে রয়েছে ইয়াবা নামের এক ধরনের উত্তেজক ট্যাবলেট৷ এছাড়াও হেরোইন, গাঁজা এবং ফেনসিডিলের ব্যবহারও উল্লেখযোগ্য।

২০১৪ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত এই চার বছরে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর মোট হেরোইন উদ্ধার করেছে ৪৮ কেজি, গাঁজা ১৬ হাজার কেজি, ফেনসিডিল দেড় লাখ বোতল, ইয়াবা ট্যাবলেট ৫০ লাখ পিস৷ এর বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছে।

মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এই আইনে ২০১৭ সালে সারাদেশে মোট মামলা হয়েছে ১,০৬,৫৩৬টি।এই মামলাগুলো মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের অভিযোগ, আটক এবং মাদকদ্রব্য উদ্ধারের ভিত্তিতে করা হয়েছে। আর এ সংখ্যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুন।

যে পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধরা পড়ে, তা বিক্রি হওয়া মাদকের মাত্র ১০ শতাংশ। আর ৯০ শতাংশ মাদকই ধরা পড়ে না।জাতিসংঘের মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা (ইউএনওডিসি)-র মতে, বাংলাদেশে বছরে শুধু ইয়াবা ট্যাবলেটই বিক্রি হচ্ছে ৪০ কোটির মতো, প্রতিটির দাম দুইশ’ টাকা হিসেবে যার বাজারমূল্য প্রায় আট হাজার কোটি টাকা।

২০১৭ সালে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের বার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৮ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ইয়াবার ব্যবহার ৮০ শতাংশ বেড়েছে। আর ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে বেড়েছে ৪৬ শতাংশ। ২০১২ সালে মোট মাদকসেবীর মধ্যে ইয়াবা আসক্তের সংখ্যা ছিল ৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ২০১৬ সালে তা হয়েছে ৩১ দশমিক ৬১ শতাংশ।

২০১০ সালে বাংলাদেশে মাদকসেবীর সংখ্যা ছিল ৪৬ লাখ, বর্তমানে তা বেড়ে হয়েছে ৭০ লাখ। ৭০ লাখের মধ্যে ১৫ বছরের বেশি বয়সের মাদকসেবী আছে ৬৩ দশমিক ২৫ শতাংশ৷ তাদের মধ্যে ৭০ ভাগের বয়সই ১৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।

মাদকাসক্তের সংখ্যা বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বের সব দেশের মধ্যে সপ্তম। মাদকাসক্তরা মাদকদ্রব্য কেনায় বছরে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।

বাংলাদেশে মাদকের ব্যবহার কমছে না কেন? এই প্রশ্নের উত্তর প্রায় সবারই জানা। বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের অবৈধ অর্থনীতির আকার এখন বেশ বড়। যদি বড় ব্যবসায়ী বলা হয়, তাহলে সেরকম মাদক ব্যবসায়ী আছে পাঁচ হাজারেরও বেশি।সরকারের তালিকায় শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ১৪১ জন। তাদের মধ্যে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, পুলিশ ও মাদক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিই আছেন। মাদকের ক্যারিয়ার বা খুচরা বিক্রেতা আছে কয়েক হাজার।কোনো কোনো মাদকসেবী আবার একই সঙ্গে খুচরা বিক্রেতা হিসেবেও কাজ করেন।

বাংলাদেশের শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রাম এলাকায়ও পৌছে গেছে মাদক। আর ঢাকাসহ শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো মাদকসেবী এবং ব্যবসায়ীদের বড় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে৷ চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যেও ঢাকার বসুন্ধরা এলাকার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে গত ১১ জুন শতাধিক মাদকসেবীকে আটক এবং ইয়াবাসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করা হয়।

মাদকসেবীদের চিকিৎসা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার কাজ করেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিউটের অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘প্রধান তিনটি কারণে বাংলাদেশে মাদক ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ১. চাহিদার সঙ্গে পর্যাপ্ত জোগান, ২. মানসিকভাবে বিষাদগ্রস্ত এবং কৌতূহল এবং ৩. হিরোইজম৷ মাদক সকল অপরাধের মূলে কাজ করে।’’

তিনি বলেন, ‘‘মাদকের চাহিদা আছে, তাই সরবরাহও আছে। আর এই সরবরাহ বন্ধ করতে না পারলে এর ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। সরবরাহ বন্ধের দায়িত্ব সরকারের। সরকার তার দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলোকে দিয়ে সরবরাহ বন্ধ করতে পারছে না বা মাদক সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে না। বাকি দায়িত্ব সমাজ ও পরিবারের। যদি সরবরাহ বন্ধ করা না যায়, তাহলে সমাজ ও পরিবার দায়িত্ব পালন করলেও মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসার স্বার্থেই এর চাহিদা তৈরির জন্য যা যা করা প্রয়োজন, তাই করবে।’’

বাংলাদেশে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য কাজ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। এর বাইরে পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ড মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং মাদকের বিরুদ্ধে অভিযানে কাজ করে।

মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের স্থল এবং জল সীমান্ত থেকে এই সময়ের আলোচিত মাদক ইয়াবা পাচার হয়ে আসে। দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশির ভাগ দেশে ইয়াবা সরবরাহ করে মিয়ানমার। মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে ইয়াবা পাচার শুরু ২০০৬ সাল থেকে। ২০১২ সালে চীন ও থাইল্যান্ডের মধ্যে চুক্তির পর মিয়ানমারের মাদক উৎপাদনকারীদের জন্য ঐ সব দেশে পাচার কঠিন হয়ে পড়ে। তখন তারা বাংলাদেশকেই মাদক পাচারের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে।

এছাড়া ভারত সীমান্ত থেকে ফেনসিডিল ও অন্যান্য মাদক পাচার হয়ে আসে৷ আকাশ পথও ব্যবহার করে মাদক পাচারকারীরা। আর বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আছে তাদের সুবিস্তৃত নেটওয়ার্ক।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দিন আহমেদ অবশ্য মনে করেন, মাদকের চাহিদা এবং জোগান দু’টি বিষয়ই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘‘মাদকের চাহিদা বন্ধ করা গেলে জোগান থাকলেও কোনো লাভ নেই। কেউ মাদক কিনবে না। আমরা এখন সাপ্লাই চেইন ধ্বংসের জন্য সমন্বিত অভিযান চালাচ্ছি। কিন্তু মাদকের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণভাবেও জনসচেতনতা গড়ে তুলতে হবে। মাদকের ব্যাপারে অনেকের ভুল ধারণা আছে। কেউ কেউ এটাকে ফ্যাশন এবং হিরোইজম হিসেবে নেয়৷ এটার কুফল আমাদের বুঝাতে হবে।’’

সব সংস্থা মিলে ২০১৭ সালে অন্যান্য মাদকের সঙ্গে আলোচিত মাদক ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে চার কোটি ৮০ হাজার পিস৷ মাদক মামলায় মোট আসামি করা হয়েছে ১,৮২,৮৩২ জনকে।

কিন্তু ২০১৭ সালে মাত্র ২৫৩৯টি মামলা আদালতে নিস্পত্তি হয়েছে৷ এ সব মামলার ২৬৮০ জন আসামির মধ্যে বেশিরভাগই খালাস পেয়েছেন।

বাংলাদেশের মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে মাদক আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে মোট ১১৬১২টি। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই বছরে শাস্তি পেয়েছেন ১০৬৫ জন আর খালাস পেয়েছেন ১৬১৫ জন।

জামাল উদ্দিন বলেন, ‘‘আমাদের মাদক আইনের কিছু সীমাবদ্ধতা আছে৷ মাদকের জন্য আলাদা ট্রাইব্যুনাল গঠন করা প্রয়োজন। আমরা আইন সংস্কার ও ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য কাজ করছি।’’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পর্যাপ্ত জনবল নেই, তা সত্য। তবে মাদক নিয়ন্ত্রেণ পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডও কাজ করে৷ আমরা সবাই মিলে মাদক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।’’

বাংলাদেশে মাদকবিরোধী অভিযানে এ পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হয়েছে প্রায় ২০ হাজার। আর কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন প্রায় দেড় শতাধিক ব্যক্তি। কিন্তু এখনো মাদক চোরাচালানের কোনো গডফাদার আটক বা বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া যায়নি।

দেশের বিভিন্ন থানা এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্থানীয়ভাবে যারা মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত, তারা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যাদের আটক করা হচ্ছে, তারা মাদকসেবী ও সাধারণ খুচরা বিক্রেতা। যারা মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করেন বা মূল পাচারকারী, তারা গ্রেপ্তার হচ্ছেন না। তাদের কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে আবার কেউ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকায়ই আছেন। মাদক আইনের ফাঁকের কারণে তাদের ধরাও যাচ্ছে না বলে পুলিশ জানায়৷ মাদক ব্যবসার সঙ্গে কোনো কোনো এলাকার পুলিশ সদ্যদের সঙ্গে যোগাযোগ থাকায় অভিযান দেখানোর জন্য সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে অনেক। অভিযানের মধ্যেই টেকনাফের মাদকের গডফাদার বলে পরিচিত সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আমানুর রহমান বদি তার দুই সহযোগীকে নিয়ে সৌদি আরবে ওমরাহ করতে চলে গেছেন।

সাধারণ মানুষের ধারণা, বাংলাদেশে মাদকের বিস্তারের আইন-শঙ্খলা বাহিনী ও মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী একটি গ্রুপের হাত আছে৷ তারাই মাদক ব্যবসার মূল নিয়ন্ত্রক৷ তাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘‘মাদক কখনোই নির্মূল করা সম্ভব নয়৷।নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মাদক একেবারেই থাকবে না, এই নিশ্চয়তা দেয়া সম্ভব নয়। আমরা মাদকের সরবরাহ বন্ধ করতে সব জায়গায় কাজ করছি। মাদকের মূল গডফাদার থেকে শুরু করে এর বিক্রেতা, পাচারকারী, সরবরাহকারী ও ব্যবহারকারী সবার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নিচ্ছি। তবে মাদকের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ও জনসচেতনতাও গড়ে তুলতে হবে। আমরা এই কাজও শুরু করেছি।’’

অধ্যাপক ড. তাজুল ইসলাম মনে করেন, ‘‘বাংলাদেশে মানসম্পন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রও গড়ে তুলতে হবে। যেসব নিরাময় কেন্দ্র আছে, সেগুলো মানসম্পন্ন নয়। প্রয়োজনীয় এবং দক্ষ চিকিৎসকও নেই।

 

এ সংক্রান্ত আরো জানতে…..

২৪ ধরনের মাদক সেবন চলে বাংলাদেশে

 

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close