অন্যান্য

ভারতের মহারাজা এক্সপ্রেস ট্রেন যেন চলন্ত হোটেল!

বার্তাবাহক ডেস্ক : প্রাচীন দুর্গ, অসাধারণ রাজপ্রাসাদ ও উজ্জ্বল মার্বেল পাথরে বানানো স্থাপনার জন্য বিখ্যাত ভারতের জয়পুর, যোধপুর ও উত্তরমুখী প্রদেশ রাজস্থান। এখানেই শেষ নয়, রাজকীয় ভ্রমণের স্বাদ দেওয়া ‘মহারাজা এক্সপ্রেস’ও রয়েছে এ তালিকায়। এটাকে বলা হয় ভারতের সবচেয়ে বিলাসী ট্রেন। ঝমঝম শব্দ তুলে এগিয়ে চলা মহারাজা এক্সপ্রেসে চড়ে শেষ গন্তব্যে পৌঁছাতে লেগে যায় আট দিন! অর্থাৎ সাত রাত। মুম্বাই থেকে শুরু করে রাজস্থান হয়ে দিল্লি গিয়ে এর যাত্রা শেষ হয়।

এটি মূলত ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ ক্যাটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম করপোরেশনের (আইআরসিটিসি) উদ্যোগ।

এ যেন চলন্ত হোটেল!
মহারাজা এক্সপ্রেসে বগি রয়েছে মোট ২৩টি। ট্রেনটি যেসব রুটে চলাচল করে, সেগুলোর মধ্যে ‘হেরিটেজ অব ইন্ডিয়া’ বেশি জনপ্রিয়। এই যাত্রায় উদয়পুর, যোধপুর, জয়পুর, রন্থামবোর ন্যাশনাল পার্ক ও তাজমহল দেখার সুযোগ মেলে ভ্রমণকারীদের। কোনও ঝক্কি পোহানো ছাড়া একসঙ্গে এত জায়গার দর্শন নেওয়ার সুযোগ আর মিলবে কোথায়! ফলে বিভিন্ন পর্যটন আকর্ষক স্থানে যেতে ক’দিন পরপরই ব্যাগ গোছাতে হবে না! এছাড়া রয়েছে অন্য ভ্রমণকারীদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ-পরিচয়ের সুযোগ।

bartabahok

হোটেলে যেমন অতিথি কক্ষ থাকে, তেমনই মহারাজা এক্সপ্রেসে আরামদায়ক ১১২ স্কয়ার ফুটের কেবিনে রয়েছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। যেমন— এলসিডি টিভি, বিশাল বিছানা ও বাথরুম। অমূল্য পাথর কিংবা নবরত্নের নামে রাখা হয়েছে কেবিনগুলোর নাম। পুরো ট্রেনজুড়ে বিলাসী স্যুটের মতো কামরার প্রতিটিতে রয়েছে দুটি বিছানা, রাজকীয় সাজসজ্জা, অ্যাটাচড ওয়াশরুম, বাথটাব, ফ্রি ওয়াইফাই ও ভারতের বাইরে টেলিফোন করার সুবিধা। এছাড়া ২৪ ঘণ্টা প্যারামেডিক ও জরুরি প্রয়োজনে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স সেবাও মেলে।

bartabahok
রাজকীয় অভিজ্ঞতা

রাজকীয় অভিজ্ঞতা
রাজস্থানের বিরাণ মরুভূমিসহ চমৎকার স্থানগুলো দেখানোর পাশাপাশি মহারাজা এক্সপ্রেস ভ্রমণকারীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেয় রাজকীয় আবহ। ভেতরে ভিড়ভাট্টার লেশমাত্র নেই। বরং এই ট্রেনে রয়েছে মনকাড়া ইন্টেরিয়র ও যাত্রীসেবায় নিয়োজিত খানসামারা। কামরায় চোখে পড়বে ভারতের অপূর্ব নান্দনিকতা। শোবার ঘরগুলো সোনার প্রলেপ দেওয়া কাপড়ে সাজানো। ঠিক রাজা-বাদশাদের আমলে যেমন থাকতো।

bartabahok
খাবারের তালিকা

খাবারের তালিকা
বিশ্বমানের খাবার পরিবেশন করা হয় মহারাজা এক্সপ্রেসে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পদ। এসব মজাদার খাবার তৈরি করেন সুস্বাদু রান্নায় পারদর্শী ফরাসি শেফ জন স্টোন। শুরুর দিকে চলন্ত ট্রেনে রান্না করা মোটেও সহজ কাজ ছিল না তার জন্য। বরং এটাকে রীতিমতো চ্যালেঞ্জই মনে হয়েছে তার। তবে ছোটবেলা থেকে ট্রেনে চড়ায় আগ্রহী জন স্টোন নিজেকে মানিয়ে নিয়েছেন মহারাজার সঙ্গে!

ছবি তোলার ফি, পরিবহন, গাইডের সেবার পাশাপাশি বিনামূল্যে মিলবে চা, কফি, মিনারেল ওয়াটার। স্টেশনে নামলে বাড়তি চার্জ না দিয়েই পাওয়া যাবে কুলি সেবা। ট্রেনটিতে আছে দুটি ডাইনিং, দুটি বার ও একটি লাউঞ্জ। ডাইনিং দুটির নাম ‘রঙমহল’ ও ‘ময়ূর মহল’। বিশ্রামের জন্য রয়েছে প্রচুর কক্ষ। তাই পর্যটকদের কাছে এই যাত্রা বেশ জনপ্রিয় ভ্রমণ।

রাজাহ ক্লাবে রয়েছে অনেক গ্রন্থ। এর মধ্যে আছে ভারতে স্বাধীনতার আগে রাজত্ব করা রাজাদের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিয়ে আলোকচিত্র নির্ভর গাইডবই। এছাড়া বোর্ড গেমস ও কার্ড গেমসে সময় কাটানোর সুযোগ রয়েছে। ট্রেজার চেস্ট নামের দোকান থেকে কেনা যায় এই রাজকীয় ট্রেন যাত্রার স্মৃতিচিহ্ন।

bartabahok
জানালার ওপারে

জানালার ওপারে
‘হেরিটেজ অব ইন্ডিয়া’ রুটে আট দিনে মহারাজা এক্সপ্রেসে চড়ে উপভোগ করা যায় ভারতের পাঁচ-ছয়টি রাজ্যের সৌন্দর্য। এর মধ্যে একদিন চোখে পড়বে ভারতের ‘গোলাপি শহর’ খ্যাত জয়পুরের স্যামন রঙের দালান-কোঠা, ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প ও আম্বার দুর্গ। যাত্রাপথে ট্রেন থামবে থার মরুভূমি ও ছোট ছোট গ্রামে। এসব স্থানে যাত্রীরা উটের চলাফেরা ও ঐতিহ্যগত লোকনৃত্য উপভোগ করতে পারে। এছাড়া রয়েছে বঙ্গোপসাগরের কাছে মহাবলীপূরমের সপ্তদশ শতকের মন্দির, প্রাচীন হাম্পির মন্দির, গোয়ার কয়েকটি সমুদ্র সৈকত ও রত্নাগিরির রত্নাদুর্গের মতো ভারতের আরও কিছু চমৎকার জায়গা।

মহারাজা এক্সপ্রেস ট্রেনের জেনারেল ম্যানেজার হেমন্দ কুমার বলেছেন, ‘ভারতের রেলওয়ে নেটওয়ার্ক বিশ্বে সবচেয়ে বৃহৎ। এমন বড় নেটওয়ার্কের জন্য এ ধরনের বিলাসবহুল ট্রেন চালানো বড় চ্যালেঞ্জ। যথাসময়ে স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া ও গন্তব্যে পৌঁছানো সত্যিই বড় চ্যালেঞ্জ।’

bartabahok
ডিলাক্স কেবিন

ট্রেনের ভাড়া
‘হেরিটেজ অব ইন্ডিয়া’ রুটের ডিলাক্স কেবিন ৬ হাজার ৮৪০ ডলার (সিঙ্গেল ৫ হাজার ১৬০ ডলার), জুনিয়র স্যুট ৯ হাজার ৮৯০ ডলার (সিঙ্গেল ৮ হাজার ৯১০ ডলার), স্যুট ১৩ হাজার ৮০০ ডলার ও প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ২৩ হাজার ৭০০ ডলার।

হেরিটেজ অব ইন্ডিয়া ছাড়াও মহারাজা এক্সপ্রেসে বিশেষ সুবিধা আছে। যেমন ৪ দিন ৩ রাতের ‘ট্রেজারস অব ইন্ডিয়া’ ও ‘জেমস অব ইন্ডিয়া’। এক্ষেত্রে ডিলাক্স কেবিন ৩ হাজার ৮৫০ ডলার (সিঙ্গেল ২ হাজার ৯১০ ডলার), জুনিয়র স্যুট ৪ হাজার ৯৫০ ডলার (সিঙ্গেল ৪ হাজার ৪৬০ ডলার), স্যুট ৭ হাজার ৬০০ ডলার ও প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ১২ হাজার ৯০০ ডলার।

৮ দিন ৭ রাতের প্যাকেজগুলোর মধ্যে ‘দ্য সাউদার্ন জুয়েলস’ ও ‘দ্য সাউদার্ন সোজার্ন’-এর ক্ষেত্রে ডিলাক্স কেবিন ৫ হাজার ৯৮০ ডলার (সিঙ্গেল ৪ হাজার ৫১০ ডলার), জুনিয়র স্যুট ৯ হাজার ৪৬০ ডলার (সিঙ্গেল ৮ হাজার ৫২০ ডলার), স্যুট ১৩ হাজার ডলার ও প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ২৩ হাজার ৭০০ ডলার।

‘ইন্ডিয়ান প্যানোরোমা’ ও ‘ইন্ডিয়ান স্প্লেন্ডর’ -এর ক্ষেত্রে ডিলাক্স কেবিন ৭ হাজার ৫৩০ ডলার (সিঙ্গেল ৫ হাজার ৬৮০ ডলার), জুনিয়র স্যুট ১০ হাজার ৮৮০ ডলার (সিঙ্গেল ৯ হাজার ৮১০ ডলার), স্যুট ১৫ হাজার ১৮০ ডলার ও প্রেসিডেন্সিয়াল স্যুট ২৬ হাজার ৭০ ডলার। মে থেকে আগস্ট পর্যন্ত ট্রেনটি বন্ধ থাকে।

 

সূত্র: সিএনএন

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close