সারাদেশ

পঞ্চগড়ে অসহনীয় লোডশেডিং, দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

বাঁধনপ্রধান, পঞ্চগড় থেকে : অসহনীয় লোডশেডিং আর লো ভোল্টেজের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। লো ভোল্টেজের কারণে টিভি ফ্রিজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমেও লো ভোল্টেজের কারণে ঘুরছে না ফ্যান, জ্বলছে না বাতি। এতে শিশুসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

শিক্ষার্থীরা রাতের বেলায় পড়তে পারছে না। গত কয়েক মাস ধরে পঞ্চগড় জেলায় প্রায় সকল উপজেলায় এই অবস্থা চললেও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ অজুহাত দেখাচ্ছে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়াকে।

তবে জানাযায়, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের অবৈধ লাইনের ছড়াছড়ির ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই লো ভোল্টেজের শিকার হচ্ছেন বিদ্যুতের সাধারণ গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার অভিযোগ করেও কোনও সমাধান মিলছে না তাদের।

গত বৃহস্পতিবার ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পঞ্চগড় নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কম্পানি লিমিটেডের (নেসকো) নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয় ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকেও দীর্ঘ সময় অবস্থান করে। পরে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলীকে তাঁর কার্যালয়ে প্রবেশ করতে দেয়নি ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবিরকে সরেজমিনে লো ভোল্টেজ এলাকা পরিদর্শনে বাধ্য করা হয়।

জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকায় লো ভোল্টেজ পরিদর্শন করে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিলে কিছুটা শান্ত হয় গ্রাহকরা।

জানাযায়, সাবেক পিডিবি ও বর্তমান নেসকোর অবৈধ ফাটা তারের অসংখ্য লাইন সরবরাহ, গ্রাহকের চাহিদার অর্ধেক পরিমাপের ট্রান্সফরমার স্থাপন ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেই লো ভোল্টেজ দেখা দিচ্ছে।

সরেজমিনে পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা যায়, যারা নেসকোর বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন তাদের অধিকাংশ গ্রাহকই লো ভোল্টেজের অভিযোগ করেন। গ্রাহকরা জানান, লো ভোল্টেজ ও ভোল্টেজ আসা যাওয়ার কারণে প্রতিদিনই নষ্ট হচ্ছে বাল্ব। এ ছাড়া কারও ফ্রিজ কারো টেলিভিশন নষ্ট হয়ে গেছে। লো ভোল্টেজের কারণে সিলিং ফ্যানগুলোও ঘুরছে না। রাতে বাল্ব না জ্বলায় শিক্ষার্থীরা পড়তে পারছে না। এ ছাড়া দিনে ছয় থেকে সাত বার লোডশেডিং হচ্ছে। ক্রমাগত লোডশেডিং আর লো ভোল্টেজের কারণে দুর্ভোগে পড়েছে সাধারণ মানুষ। এ কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

সরেজমিনে আরও দেখা যায়, কোথাও সড়কের ওপর দিয়ে আবার কোথাও ক্ষেত খামার দিয়ে বাঁশের খুঁটি কিংবা গাছে গাছে কিলোমিটারের পর কিলোমিটার চলে গেছে বিদ্যুতের অবৈধ ফাটা তারের লাইন। কোথাও আবার মাথার সামান্য ওপরেই ঝুলছে খোলা তারগুলো। গ্রাহকরা অভিযোগ করেন ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো নেসকোর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ছত্রছায়ায় দালালরা সরবরাহ করেছে। প্রত্যেক বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার নামে নেওয়া হয়েছে মোটা অংকের টাকা। তবু তাদের বৈধ তারের সংযোগ মেলেনি।

পঞ্চগড় জেলা শহরের কামাতপাড়া এলাকার বাসিন্দা আফসানা খাতুন বলেন, ‘গরমের মধ্যে লো ভোল্টেজের কারণে আমাদের ছেলেমেয়েরা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। রাতে গরমে ঘুমাতে পারি না।’

একই এলাকার আরজিনা খাতুন বলেন, ‘লো ভোল্টেজে বিদ্যুতের যে বাতি জ্বলে তার চেয়ে কূপিই ভালো। সন্ধ্যার পর ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া করতে পারছে না। ফ্রিজের সব জিনিস নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বার বার বিদ্যুৎ অফিসে অভিযোগ করলেও তারা কোনও প্রদক্ষেপ নেননি।’

ওই এলাকার জুয়েল ইসলাম বলেন, ‘বিদ্যুতের লো ভোল্টেজের কারণে অসহনীয় যন্ত্রণার মধ্যে আছি আমরা। টিভি ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। ফ্যান ঘুরছে না। এই গরমে ছেলেমেয়েদের নিয়ে খুব সমস্যায় পড়ে গেছি। অথচ প্রতিমাসেই বিদ্যুৎ বিল মিটারের রিডিংয়ের চেয়ে বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। নেসকোর অফিসে অন্তত ১০ বার অভিযোগ করেছি। একদিনও কেউ দেখতে আসেননি।’

নেসকোর পঞ্চগড় নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবির বলেন, ‘বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লো ভোল্ডেজ দেখা দিচ্ছে। আমাদের মোট চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট। আমরা পাচ্ছি সাড়ে ১০ মেগাওয়াট। এই জন্য লোডশেডিং হচ্ছে। এটা কেবল পঞ্চগড়ের সমস্যা না সব জায়গায় একই অবস্থা। তবে আশা করি এই সমস্যা অল্প কিছুদিনের মধ্যেই সমাধান হয়ে যাবে।’

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close