আলোচিত

দফায় দফায় সংঘর্ষ ঢাকায়, আহত অন্তত অর্ধশত

আলোচিত বার্তা : ঢাকায় সোমবারও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ ও ‘সরকার সমর্থকদের’ সংঘর্ষ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের মিছিলে ‘বাধা’ দেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে।

শিক্ষার্থীদের ওপর শনি ও রবিবার পুলিশ ও সরকার সমর্থকদের হামলার প্রতিবাদে সোমবারও বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও একাধিক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এই মিছিল-সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় পুলিশ ও লাঠিসোঁটা হাতে যুবকরা শিক্ষার্থীদের ওপর চড়াও হলে কয়েকটি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সব ঘটনায় সোমবার প্রায় অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন।

শাহবাগ এলাকা

প্রায় ছয়শ’ শিক্ষার্থী সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন৷ বেলা ১২টায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে মিছিল শুরু করেন তারা। এরপর মিছিলটি মধুর ক্যান্টিন, কলাভবন, কার্জন হল, বুয়েট ঘুরে টিএসসি হয়ে বিকেল ৩টার দিকে শাহবাগের দিকে অগ্রসর হয়।

শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত পুলিশ সদস্যরা এ সময় শিক্ষার্থীদের আটকে দেন। তখন বাকবিতণ্ডা ও পরে ধাক্কাধাক্কি শুরু হবার এক পর্যায়ে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পুলিশ। এ সময় শিক্ষার্থীরা পালটা ঢিল ছুঁড়তে থাকেন। ইটের আঘাতে আহত হন এক পুলিশ সদস্য। এরপর পুলিশ জলকামান ও লাঠিচার্জ করে৷ প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলে ধাওয়া-পালটা ধাওয়া।

পুলিশ শাহবাগ থেকে এগিয়ে গিয়ে চারুকলার সামনে অবস্থান নেয়৷ শিক্ষার্থীরা পিছিয়ে টিএসসিতে চলে যান।

এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘‘আমরা পুলিশকে বলেছিলাম, মিছিল নিয়ে শাহবাগ ঘুরে চলে আসব৷ কিন্তু তারা আমাদের বাধা দেয়৷।এক পর্যায়ে তারা টিয়ার গ্যাস মারা শুরু করে।”

bartabahok
এ বিষয়ে মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার মারুফ হোসেন সরদার দাবি করেন, শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড়ে রাস্তা বন্ধ করতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়৷ বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শতাধিক যুবক শাহবাগ মোড়ে এসে রাস্তা বন্ধ চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে তারা ইট ছোড়ে৷ পরে পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দেয়।”

শিক্ষার্থীরা বলছে, এই সংঘর্ষে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। দুই শিক্ষার্থীকে আটকের বিষয়ে পুলিশ জানিয়েছে যে, তাদের বিরুদ্ধে যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়

এদিকে, রাজধানীর রামপুরার আফতাবনগর এলাকায় ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করতে ক্যাম্পাসের সামনে অবস্থান নেন। সোমবার বেলা পৌনে এগারটার দিকে শুরু হয় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ। পুলিশ টিয়ার শেল ছুঁড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে পুলিশ।

এ সময় একদল যুবক লাঠি হাতে তাদের ধাওয়া দেন। তারা মেরুল বাড্ডার দিক থেকে এসে ধাওয়া দেন৷ যুবকরা রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সাধারণ পথচারীদের ওপর চড়াও হন। এ সময় স্কুলের পোশাক পরিহিত দু’জনকে পেটাতে দেখেন সেখানে উপস্থিত জনতা।

bartabahok
সড়ক আটকে শিক্ষার্থীদের অবস্থান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছে, লাঠি হাতে সেই যুবকদের মধ্যে বেরাইদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদেরও দেখা যায়।

এরপর পুলিশের পাশাপাশি সেখানে র‌্যাব ও এপিবিএন সদস্যরাও অবস্থান নেন৷ তারা শিক্ষার্থীদের চলে যেতে বলেন। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে টায়ার জ্বালিয়ে দেন।

পরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়ে। ইউনিভার্সিটির ভেতরে চলে যায় শিক্ষার্থীরা৷ লাঠি হাতে রাস্তায় অবস্থান নেয়া যুবকরা তখনও ইউনিভার্সিটির দিকে ঢিল ছুঁড়ছিলেন।

সেখান থেকে প্রকাশ হওয়া বিভিন্ন ভিডিওতে অল্প বয়সি তরুণ যুবকদের দেখা যায় ইস্ট ওয়েস্টের দিকে ঢিল ছুঁড়তে।

ওই সময় সেখানে দায়িত্বরত প্রথম আলোর প্রতিবেদক নাসরিন আক্তার সুমির ওপর চড়াও হন একদল যুবক। তার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন তারা। সুমি দাবি করেন, পরে পুলিশ সদস্যরা বাড্ডা ফাঁড়িতে নিয়ে গিয়ে ফোনের সব তথ্য মুছে ফেলেন।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা

ইস্ট ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে দুপুর ২টার দিকে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও প্রতিবাদ জানাতে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জড়ো হন।

দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই সময় একদল যুবক লাঠিসোঁটা হাতে তাদের ওপর চড়াও হন। এর কিছুপর পুলিশ সেখানে টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। মুহুর্মুহু টিয়ার শেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ সময় অনেক শিক্ষার্থী আহত হন। সেখানে থাকা পথচারীরাও আহত হন।

সংঘর্ষে আহত হয়ে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত অ্যাপোলো হাসপাতালের ইমারজেন্সি বিভাগে চিকিৎসা নিতে গিয়েছেন অন্তত ৪০ জন।

বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা

এদিকে, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি নেতা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও রুহুল কবীর রিজভীর বিরুদ্ধে।

আদালতে মামলা করেছেন জননেত্রী পরিষদের সভাপতি এ বি সিদ্দিকী। ৪ আগস্ট ইলেকট্রনিকস ডিভাইস ব্যবহার করে রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু আর ফখরুল ও রিজভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ যে, তাদের নির্দেশেই নিরীহ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ছাত্রদলের কর্শিরা ঢুকে জিগাতলায় আওয়ামী লীগের অফিসে হামলা করেছে। এই তিন আসামি সরকারবিরোধী ষড়যন্ত্র করেছেন বলে অভিযোগ বাদীর।

 

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close