আলোচিত

শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে শেষ পর্যন্ত আন্দোলন দমনে কঠোর হবে সরকার

আলোচিত বার্তা : নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে আর বাড়তে দিতে চায় না সরকার। পরিস্থিতি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে আন্দোলনের লাগাম টানা দরকার বলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার মনে করছে। এক্ষেত্রে দরকার হলে কিছুটা কঠোরও হবে তারা।

সরকারের একাধিক মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপ করে এ আভাস পাওয়া গেছে।

সরকারের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় পরিচালিত অন্য সব কর্মসূচির সঙ্গে তুলনা না করে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের যৌক্তিকতা থাকায় এবং কৌশলগত কারণে চুপ থেকেছে সরকার। আন্দোলনকে যৌক্তিক মনে করে তাদের উত্থাপিত নয় দফা দাবির পুরোটাই মেনে নিয়ে এরই মধ্যে তার বাস্তবায়ন শুরু করেছে। তবে দাবি আদায়ের পর শিক্ষার্থীদের রাজপথ না ছাড়ার বিষয়টিকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে স্বার্থান্বেষী মহল শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করে উদ্দেশ্য হাসিল করতে চাইছে বলে সরকার মনে করছে। এজন্য তারা সুনির্দিষ্টভাবে বিএনপি-জামায়াতের নামও উল্লেখ করছে।

সূত্র বলছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে অনুপ্রব্শেকারীরা কয়েকটি স্থানে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছে— এমন প্রমাণ সরকারের কাছে আছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারি দল মনে করছে, এই মুহূর্তে আন্দোলন ঠেকানো না গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। এ কারণে চলমান পরিস্থিতিতে সরকার শক্ত অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে।

অবশ্য সরকারের একটি অংশ মনে করছে, দাবি পূরণের পর শিক্ষার্থীরা নতুন করে সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে আর রাজপথে নামবে না। তবে আন্দোলন থামাতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা আশ্বাস দেওয়ার পরও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন শিক্ষার্থীরা রাজপথ না ছাড়ার বিষয়টি কিছুটা উদ্বেগে ফেলেছে সরকারকে। এরপরও আরও কিছু সময় পর্যন্ত এ আন্দোলনকে বিশেষ পর্যবেক্ষণে রাখা হবে বলে জানা গেছে।

সরকার মনে করছে শুক্রবার বিচ্ছিন্নভাবে যে আন্দোলন হয়েছে শনিবারের মধ্যে তা পরিণতির দিকে যাবে। তবে প্রত্যাশামাফিক এমনটা না ঘটলে শিক্ষার্থীদের ঘরে ফেরাতে শেষ পর্যন্ত সরকার আন্দোলন দমনে কঠোর হবে।

শেষবারের মতো সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা যেহেতু তাদের সব দাবি মেনে নিয়েছি, তাতে মনে করছি এই আন্দোলনকারীরা আর আসবে না। অবশ্য অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে একটি মহল বিষয়টিতে জিইয়ে রাখার চেষ্টা করতে বলে আমাদের মনে হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আন্দোলনে স্বার্থান্বেষী মহল ও ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শ ঢুকে পড়েছে। ফলে সরকারের পক্ষে হাত গুটিয়ে বসে থাকার সুযোগ নেই। এ ধরনের পরিস্থিতি হলে অবশ্যই আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’

এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ধানমন্ডির বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ চরম ধৈর্যের পরিচয় দিয়েছে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, তাতে সাবোটাজ ও দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। আন্দোলন নিয়ে সুবিধাবাদীরা ষড়যন্ত্র করতে পারে। যদি কিছু ঘটে, তবে নিরাপত্তাবাহিনী এর দায় নিতে পারবে না।’

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা সড়কে যে কাজ করছে, সেটা তাদের কাজ নয়। তারা আন্দোলনের অংশ হিসেবে এটা করছে। তাই বলবো, তোমাদের কাছে অনুরোধ করবো, যথেষ্ট হয়েছে, এখন ফিরে যাও, যার যে কাজ তাকে সেই কাজ করতে দাও।’

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই গ্রহণ করেছে। ঘাতক বাসের চালক, মালিক ও হেলপারকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। আমরা আশা করবো শিক্ষার্থীরা তাদের আন্দোলনের সফলতা নিয়ে ক্লাসে ফিরে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘তবে আন্দোলনে একটি মহলের অনুপ্রবেশ ঘটেছে তার প্রমাণ আমাদের কাছে আছে। গত দুই দিন থেকে আমাদের মনে হচ্ছে আন্দোলন ভিন্ন খাতে প্রবাহিত হচ্ছে। বিশৃঙ্লখার চেষ্টা হচ্ছে। এ ধরনের বিশৃঙ্খলা হলে তো সরকারকে কঠোর হতেই হবে। বিশৃঙ্খলা তো আমরা চলতে দিতে পারি না।’

দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনকারীদের সব দাবি সদয় বিবেচনায় নিয়েছেন। আমরা আশা করবো ছাত্রছাত্রীরা এবার ফিরে যাবে। তারা কারো প্ররোচনায় প্রভাবিত হবে না। তবে সতর্ক দৃষ্টিতে আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।’

তিনি বলেন, ‘ছাত্রছাত্রীরা যদি কারো দ্বারা প্রভাবিত হয় বা অনুপ্রবেশকারীরা তাদের ভেতরে ঢুকে নৈরাজ্য-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় যে করণীয় সরকার সেটাই করবে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৯ জুলাই ঢাকার বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী আবদুল করিম রাজীব ও দিয়া খানম মীম নিহত হন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজপথে নেমে আসে শিক্ষর্থীরা। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে তাদের দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলে কিছুটা নমনীয় হয়। কিন্তু এরই মধ্যে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহাজান খানের বক্তব্য আন্দোলনকারীদের উসকে দেয়। এ অবস্থায় গত ছয় দিন ধরে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে আন্দোলন করছে।

 

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close