সারাদেশ

প্রিয়.কমের কার্যালয়ে হামলা, সাংবাদিককে মারধর

বার্তাবাহক ডেস্ক : রাজধানীর ধানমন্ডির সাত মসজিদ রোডে অবস্থিত অনলাইন সংবাদমাধ্যম প্রিয়.কমের কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে একদল যুবক। এর আগে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব প্রতিবেদক প্রদীপ দাসকে মারধর করে তারা।

 শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার পর এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু কে বা কারা এই হামলা চালিয়েছে তা জানা যায়নি।

সড়ক দুর্ঘটনার প্রতিবাদ ও বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনার বিচার দাবিতে গত কয়েকদিন ধরেই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছিল। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুর থেকে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়টির সামনে জড়ো হতে থাকে। বিকেল ৬টার দিকে তাদের ওপর আকস্মিক হামলা চালায় একদল যুবক।

মারধরের ঘটনার খবর সংগ্রহ করতে গেলে প্রিয়.কমের প্রতিবেদক প্রদীপ দাসের মোবাইল ভাঙচুর করে যুবকরা। পরে মোবাইলটি নিয়ে যায় তারা। প্রদীপ নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। ওই সময় প্রিয়.কমের কয়েকজন সহকর্মী প্রদীপকে উদ্ধার করতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় ওই যুবকরা। প্রিয়.কমের কর্মীরা নিউজরুমে প্রবেশ করলে হামলাকারী যুবকরা ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। কিন্তু দরজা লাগানো থাকায় হামলাকারীরা বাইরের কাচ ভাঙচুর করে চলে যায়।

হামলার বিষয়ে প্রদীপ দাস বলেন, ‘ইউল্যাবের সামনে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে মারধর করছিল একদল যুবক। এ ঘটনার ছবি তুলতে গেলে তারা আমার ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি লাথি-ঘুষি মারতে থাকে। একপর্যায়ে তারা আমার হাতে থাকা মুঠোফোনটি কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে।’

প্রিয়.কমের হেড অব নিউজ রফিকুল রঞ্জু বলেন, ‘আমার অফিসের পাশে রাস্তায় ইউল্যাবের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালাচ্ছিল ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী একদল যুবক। মারধরের সে ঘটনার ছবি তুলতে গেলে আমাদের প্রতিবেদক প্রদীপ দাসের ওপর ওই যুবকরা হামলে পড়ে। পরে আমরা কয়েকজন সহকর্মী তাকে বাঁচাতে গেলে আমাদের হাত ধরে টানাটানি করে কিল-ঘুষি দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে ধাওয়া দিলে দৌড়ে এসে আমরা নিউজরুমে প্রবেশ করি। ততক্ষণে অফিসের প্রবেশমুখে কাচের দরজা ভাঙচুর করে চলে যায় তারা।’

ঘটনার পরপরই ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল লতিফকে বিষয়টি জানানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললেও তিন ঘণ্টা পরও পুলিশের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ দেখা যায়নি।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদারকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, ‘আপনারা থানায় গিয়ে একটা অভিযোগ দেন। তারপর বিষয়টি আমরা দেখছি।’

২৯ জুলাই রাজধানীর কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করে আসছিল। শুক্রবার ছুটির দিনেও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close