আলোচিত

এসপি হারুনকে ডিএমপিতে বদলি করে শামসুন্নাহারকে গাজীপুরে পদায়ন


আলোচিত বার্তা : বহুল আলোচিত গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুন অর রশিদসহ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ১২ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

এসপি হারুনকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহারকে গাজীপুরে পদায়ন করা হয়েছে।

বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে হারুনসহ ১২ জনকে বদলির আদেশ দেওয়া হয়।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের আগে হারুনকে গাজীপুর থেকে সরানোর দাবি তুলেছিল বিএনপি। তবে তাতে সাড়া মেলেনি।

মেট্রোপলিটন হওয়ার পর সম্প্রতি গাজীপুরের প্রথম পুলিশ কমিশনার হিসেবে ডিআইজি ওয়াই এম বেলালুর রহমানকে নিয়োগ দেওয়া হয়। ফলে এসপির ক্ষমতার পরিধি কমে গেছে।

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামকে কুমিল্লায় পাঠানো হয়েছে। কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেনকে পাঠানো হয়েছে ময়মনসিংহে।

পাবনার পুলিশ সুপার জিহাদুল কবিরকে চাঁদপুরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি শেখ রফিকুল ইসলামকে পাবনার এসপি করে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার সৈয়দ আবু সায়েমকে দিনাজপুরের এসপি করে পাঠানো হয়েছে। দিনাজপুরের পুলিশ সুপার মো. হামিদুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে চট্টগ্রাম মহানগরের।

যশোরের পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমানকে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যশোরে পাঠানো হয়েছে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মঈনুল হককে।

বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাককে চট্টগ্রাম মহানগরে এবং চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মো. মারুফ হোসেনকে বরগুনায় বদলি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজীপুরের এসপি হারুন অর রশীদ ২০১৪ সালের ২৪ আগস্ট জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন। তার গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জে। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তৃতীয় দফায় গাজীপুর সদর, শ্রীপুর ও কাপাসিয়ায় ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ওই বছরের ২১ এপ্রিল এসপি হারুন অর রশীদকে গাজীপুর থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছিল।

নির্বাচন সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রত্যাহারের আদেশ তুলে নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে ওই বছর ৩ মে গাজীপুরের পুলিশ সুপার পদে হিসেবে পুনর্বহাল করে।

এসপি হারুন আগে ঢাকা মহানগর পুলিশে ছিলেন। তখন বিএনপি নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের উপর হামলার ঘটনায় আলোচিত হয়েছিলেন তিনি।

শামসুন্নাহার সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে ২০০১ সালে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিসে যোগ দেন। মানিকগঞ্জ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, পুলিশ সদর দফতর, ট্যুরিস্ট পুলিশসহ বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। ২০০৯-২০১০ পর্যন্ত জাতিসংঘ মিশনের মাধ্যমে পূর্ব তিমুর জাতীয় পুলিশের মানবসম্পদ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্বেও ছিলেন। এ ছাড়া ২০১১-২০১৪ পর্যন্ত জাতিসংঘের শাখা অফিস ইতালিতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। কর্মতৎপরতার গুণে ৭ বার জাতিসংঘ শান্তি পদক লাভ করেছেন। বাংলাদেশ পুলিশে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রেসিডেন্ট পুলিশ মেডেল (পিপিএম), ৩ বার আইজি ব্যাজপ্রাপ্ত হন তিনি। ২০১৬ সালে পেয়েছেন উইমেন লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড। শিক্ষাজীবনেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০০৫ সালে এমফিল করেন। পরে স্কলারশিপ পেয়ে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেন।

ফরিদপুরের মেয়ে শামসুন্নাহার। তার বাবা শামসুল হক ও মা আমেনা বেগম। চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় শামসুন্নাহার।

২০১৫ সালের জুনে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে যোগদান করেন শামসুন্নাহার। সৎ ও সাহসী পুলিশ কর্মকর্তা বলেই তার সুনাম রয়েছে পুলিশ বাহিনীতে। চাঁদপুরে ইতিমধ্যে মাদক, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন রোধে অগ্রণী ভূমিকা রেখেছেন তিনি।

‘পুলিশ সপ্তাহ-২০১৬’ প্যারেডে প্রথম নারী হিসেবে নেতৃত্ব দিয়ে ইতিহাস গড়েন এসপি শামসুন্নাহার। মহানগর পুলিশ, রেঞ্জ পুলিশ, আর্মড পুলিশ ও র‌্যাবসহ পুলিশের ১৩টি দলের সহস্রাধিক সদস্যের প্যারেডে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি দেশজুড়ে প্রশংসিত হন। ২০১৭ সালেও পুলিশ সপ্তাহ প্যারেডে তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

প্রজ্ঞাপন

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close