জাতীয়

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিন সিটিতেই ভোটার উপস্থিতি বাড়ছে

বার্তাবাহক ডেস্ক : রাজশাহী, সিলেট ও বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে একযোগে তিন সিটিতে ভোট শুরু হয়। ভোট শুরুর আগে থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটার উপস্থিতি দেখা গেছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভোটার উপস্থিতিও বাড়ছে। সকাল ১০টা পর্যন্ত তিন সিটির কোথাও বড় ধরনের কোনও অনিয়ম বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি।

তবে সিলেটে বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী অভিযোগ করেছেন — ‘সকাল থেকেই ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলোতে আমাদের ধানের শীষের এজেন্টদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এজেন্টদেরকে ধাওয়া করেছে।’ সিলেটে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব অভিযোগ করেছেন, তার এজেন্টদের বের করে দিয়ে কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ভোট দিচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে ফল মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মেয়র প্রার্থীরা।

নির্বাচনের যেকোনও ধরনের ফলাফল মেনে নেওয়ার মানসিকতা আছে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। শনিবার সকাল সোয়া ৮টায় নগরীর উপশহর স্যাটেলাইট হাই স্কুল কেন্দ্রে তিনি ভোট দেন। এরপর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘আমি লক্ষ্য করেছি উৎসবমুখর পরিবেশে সবাই ভোট দিচ্ছেন। সারাদিন এমন পরিবেশে সবাই ভোট দেবেন এটাই আশা করি। নির্বাচনে জয়-পরাজয় থাকবেই। ফলাফল একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন। তবে যেকোনও ফলাফল মেনে নেওয়ার মন মানসিকতা আছে।’ ভোট কারচুপির কোনও আশঙ্কা আছে কিনা-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘পরিবেশ যেন ভালো থাকে এটাই আশা করি। তবে অতি উৎসাহী কেউ যেন এই সুষ্ঠু পরিবেশটাকে নষ্ট না করে।’

বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সের‌নিয়াবাত সা‌দিক আবদুল্লাহ বলেছেন, ‘নির্বাচ‌নের ফলাফল যাই হোক না কেন তা মে‌নে নেবো। নির্বাচ‌নে যেই জয়লাভ কর‌বে, তা‌কে সহায়তা কর‌বো।’ সোমবার (৩০ জুলাই) সরকারি ব‌রিশাল কলেজ কে‌ন্দ্রে ভোট প্রদান ক‌রেন। কেন্দ্রের প্রথম ভোটটি দেন তিনি। আওয়ামী লী‌গের প্রার্থী ব‌লেন, ‘বর্তমান সরকা‌রের উন্নয়ন দে‌খে জনগণ আওয়ামী লীগ‌কে ভোট দে‌বে। জাতীয় পার্টি এরই মধ্যে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে। ভোট সুষ্ঠু হবে না এমন অভিযোগ ঠিক নয়। জনগণ উৎসবমুখর প‌রি‌বে‌শে ভোট দি‌চ্ছে।’

এদিকে সিলেটে জামায়াত সমর্থিত মেয়র প্রার্থী অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব অভিযোগ করেছেন, তার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেছেন, ‘কেন্দ্র দখল করে নৌকায় ভোট দিচ্ছেন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। যার কারণে সিলেট সিটি নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন না হওয়ার আশঙ্কা করছি আমরা।’ বাংলা ট্রিবিউনকে মোবাইল ফোনে এই নেতা আরও জানান, ‘ভোট জালিয়াতির মাধ্যমে সিলেটের সম্প্রীতির ইতিহাসে কলঙ্কের কালিমা লেপন করছে আওয়ামী লীগ। সোমবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ২০ নম্বর ওয়ার্ডের এমসি কলেজ কেন্দ্র, ১১ নম্বর ওয়ার্ডের লামাবাজার কেন্দ্র ও ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জালালাবাদ আবাসিক এলাকার দুটি কেন্দ্র ও কাজীরবাজার মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে টেবিল ঘড়ি মার্কার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এসব কেন্দ্রে কক্ষগুলোর দরজা বন্ধ করে নৌকা প্রতীকে সিল মারা হচ্ছে।’

সিলেটের বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপির এজেন্টদের ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘সকাল থেকেই ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডের কেন্দ্রগুলোতে আমাদের ধানের শীষের এজেন্টদেরকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীরা অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে এজেন্টদেরকে ধাওয়া করেছে। জীবন বাঁচানোর ভয়ে আমার ধানের শীষের এজেন্টরা আর কেন্দ্রেই যায়নি।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নগরের কাজী জালালউদ্দিন একাডেমিতে রবিবার (২৯ জুলাই) রাতেই ব্যালেট বাক্স ভরে রেখেছে। এটা যদি তারা করতে পারে তাহলে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন তাদের ভূমিকাই কী ছিল?

সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক) নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান বলেছেন, ‘আজকের সিটি নির্বাচনে জনগণ যে রায় দেবে তা মাথা পেতে নেবো। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, তাই জনগণের যেকোনও রায় মেনে নেয়।’ সোমবার (৩০ জুলাই) সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল পৌনে ৯টায় ভোট প্রদান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘অত্যন্ত সুন্দর এবং সুষ্ঠুভাবে ভোটগ্রহণ চলছে। বিএনপির প্রার্থীর যেসব অভিযোগ রয়েছে তা মিথ্যা এবং অপপ্রচার।’

প্রসঙ্গত, তিন সিটিতে মেয়র পদে ১৯ জন, সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৭৮ জন ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১৪৯ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তাদের মধ্যে বরিশালে তিন জন সাধারণ কাউন্সিলর ও একজন নারী কাউন্সিলর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়েছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে সিটি এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। নির্বাচনের নিরাপত্তায় শনিবার (২৮ জুলাই) থেকেই সিটির প্রতিটি ওয়ার্ডে র‍্যাবের একটি টিম এবং প্রতি দুই ওয়ার্ডে এক প্লাটুন করে বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া, বিজিবি রিজার্ভ রাখা হয়েছে। এ হিসাবে তিন সিটিতে র‌্যাবের ৮৭ টিম ও ১১ প্লাটুন রিজার্ভসহ ৫৫ প্লাটুন বিজিবি নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছে। নির্বাচনের পরদিন মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) পর্যন্ত নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে তারা।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close