আন্তর্জাতিক

ইমরান খান কি পারবেন নতুন পাকিস্তান গড়তে?

আন্তর্জাতিক বার্তা : কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও প্লেবয় খ্যাত ইমরান খান পাকিস্তানের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন। ক্রিকেটার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া ইমরান খানকে একসময় পশ্চিমের সাংবাদিক-বিশ্লেষকরা দেখতেন অক্সফোর্ডে পড়া একজন রমণীমোহন প্লেবয় হিসেবে, যিনি ক্রিকেট খেলার অন্ধিসন্ধি যেমন জানতেন, তেমনি চিনতেন লন্ডনের নাইটক্লাবগুলো।

বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাদের এক সময়ের পাকিস্তানের সংবাদদাতা জোনাথন বুন লিখেছেন, ইমরান খানের রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি তার ব্যক্তিগত জীবনের মতোই উদার হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইমরান খান দেশের জন্য কি করতে পারবেন তা বোঝা যাবে আগামী কয়েক মাস কিংবা বছরের মধ্যেই। কারণ এটা স্পষ্ট যে ইমরান খানই হতে যাচ্ছেন পাকিস্তানের আগামী প্রধানমন্ত্রী। এই পর্যবেক্ষকরা নানা দিক থেকে হিসাব-নিকেশ কষছেন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরান খান পাকিস্তানে কি পরিবর্তন আনতে চান, বা জনগণের প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারবেন।

ইমরান খান কি করতে চান?
ইমরান খান প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পরিবর্তন আনার। প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শিক্ষা আর স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাবেন, তরুণদের জন্য সৃষ্টি করবেন কর্মসংস্থান। এই তরুণরাই তার প্রধান সমর্থক। পাকিস্তানের জনসংখ্যার ৬৬ শতাংশ জনগণ ৩০ বছরের নিচে।

ইমরান খানের সরকার গঠন
পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে ইমরানের দল তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) ১১৫টি আসন পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। চূড়ান্ত বেসরকারি ফলাফলে ২৭২ আসনের মধ্যে ২৭০ আসনে অনুষ্ঠিত হওয়া নির্বাচনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পেয়েছে ৬৪ আসন। আর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৪৩টি আসন। নির্বাচনে ১২ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী জয় পেয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে এই ছোট দলগুলোর সঙ্গে জোট করে সরকার গঠন করবেন পিটিআই প্রধান ইমরান খান।

তবে ইমরান খানে প্রাথমিক চ্যালেঞ্জ হলো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করা। কারণ তাকে সমালোচক ও প্রতিদ্বন্দ্বীরা দেখেন পাকিস্তানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনীর এস্টাব্লিশমেন্টের একজন ‘প্রক্সি’ বা ক্রীড়নক হিসেবে। এদের অভিযোগ, ইমরান খানকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে সামরিক বাহিনী নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করেছে।

ইমরান খানের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ
ইমরান খান গত পাঁচ বছর ধরে নওয়াজ শরিফের বিরুদ্ধে বিরামহীন প্রচারণা চালিয়ে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলেন, পাকিস্তানের আসল সমস্যাটা কোথায় এ নিয়ে ইমরান খানের যে ধারণা – তা একরকম অতি-সরলীকরণ। তিনি তার সমর্থকদের বলে আসছেন, পাকিস্তানে চাকরি সৃষ্টি করতে হলে এবং সেবা খাতকে উন্নত করতে হলে দেশে পিপিপি আর মুসলিম লিগ(এন)-এর যে পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি চলছে তার অবসান ঘটাতে হবে। দুর্নীতিবাজ নেতাদের ধরতে হবে এবং তাদের লুকানো সম্পদ বের করে আনতে তাদের বাধ্য করতে হবে।

কিন্তু একটা প্রকৃত গণতান্ত্রিক পদ্ধতি আর সামরিক বাহিনী প্রভাবিত গণতন্ত্রের মোড়ক – এ দুটোর মধ্যে যে পার্থক্য আছে, সামরিক বাহিনী যে নিজের একটি বিশাল ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য চালাচ্ছে এবং তারা যে দেশের নিরাপত্তা এবং পররাষ্ট্রনীতি নিয়ন্ত্রণ করতে চায় – এসব নিয়ে ইমরান খানের কোনো আগ্রহ দেখা যায় না।

ইমরান খান এমন কোনো ইঙ্গিতও দেননি যে তিনি ধর্মীয় জঙ্গীবাদকে একটা সমস্যা বলে মনে করেন।

সামরিক এস্টাব্লিশমেন্টের সঙ্গে দ্বন্দ্ব
অনেকেই মনে করেন ক্ষমতা গ্রহণের কিছুকাল পরই একটা সময় আসবে যখন ইমরান খান দেখতে পাবেন যে তিনি সামরিক এস্টাব্লিশমেন্টের সঙ্গে একটা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। তার দুই পূর্বসূরীর ক্ষেত্রেও ঠিক এমনটাই হয়েছিল।

অনেকের অভিযোগ, ইমরান খানকে ক্ষমতায় আনার জন্য নেপথ্য থেকে কাজ করেছে সামরিক বাহিনী। এর কারণ সম্পর্কে প্রবীণ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বলেন, যখন ইমরান খান ক্ষমতা গ্রহণ করবেন এবং বৃহৎ পরিসরের ছবিটা তার কাছে স্পষ্ট হয়ে উঠবে – তখন তিনি দেখবেন যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের দিকে এগুতে গেলে তাকে এমন পথ দিয়ে যেতে হবে যেখানে আগে থেকেই সামরিক বাহিনী আসন গেড়ে বসে আছে।

এই পর্যবেক্ষকরা আরও বলেন, ইমরান খানকে অবশ্যই বিশেষত ভারতের সাথে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব-উত্তেজনা কমাতে হবে। কিন্তু এসব ইস্যুর জন্য প্রধানত পাকিস্তানের নিরাপত্তা এস্টাব্লিশমেন্টকেই দায়ী করা হয়।

আলোচনা-সমালোচনা সব সময় থাকবে। তবে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হওয়ার পর এই কিংবদন্তি এই ক্রিকেটার পাকিস্তান ও দেশটির জনগণের জন্য প্রত্যাশা কতটুকু পূরণ করতে পারবেন তাই দেখার বিষয়।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close