আলোচিতসারাদেশ

নরসিংদীতে কোভিড টিকার জন্য ডেকে নিয়ে গায়ে অগ্নিসংযোগ: নারীর মৃত্যু

বার্তাবাহক ডেস্ক : নরসিংদীর রায়পুরায় পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়ার ঘটনায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় পারভীন আক্তার(৩০) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।

ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

নিহত নারীর ভাই আকরাম হোসেন অভিযোগ করেন, শনিবার তার বোনের প্রাক্তন শ্বশুড়বাড়ির লোকজন টিকা দেয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।

এ ব্যাপারে রায়পুর থানায় রবিবার একটি মামলাও দায়ের করেছেন তিনি এবং সেখানে এই অভিযোগের উল্লেখ আছে।

রায়পুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার সত্যজিৎ কুমার ঘোষ এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

তিনি বলেন, মামলায় চার জনকে আসামী করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এ বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি।

গ্রেপ্তার দু’জন হলেন- রায়পুরার মরজাল এলাকার হাফিজ উদ্দিন মুন্সীর ছেলে আলী হোসেন (৩২) এবং তার ভাগনে ও কাজী আলতাফ হোসেনের ছেলে মো. শাহরিয়ার (১৮)।

শনিবার যা ঘটেছিল:
শনিবার রাতে উপজেলার লোচনপুর এলাকার একটি বাঁশঝাড়ের পাশে থেকে পারভিন আক্তারকে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।

সেখান থেকে তাকে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে মধ্যরাতে পাঠানো হয় ঢাকায় শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে।

এতে ওই গৃহবধূর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই গুরুতর আহত মিজ আক্তারের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সেখানে মিজ আক্তার বলেন যে, অভিযুক্তরা তাকে করোনাভাইরাসের টিকা দেয়ার কথা বলে, ওই নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে গায়ে আগুন ধরিয়ে পালিয়ে যায়।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কয়েক মাস আগে স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ি হয় মিজ আক্তারের। কিছুদিন আগে তার শিশুকন্যার উপর সাবেক শ্বশুরবাড়ির লোকজন হামলা চালিয়েছে এমন অভিযোগে মিজ আক্তারের পরিবারের তরফ থেকে একটা মামলা করা হয়। সেই মামলার জেরে মিজ আক্তারের পরিবারের সাথে তার সাবেক শ্বশুরবাড়ির পরিবারের দ্বন্দ্ব বড় আকার ধারণ করে।

পুলিশ মনে করছে, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পুরনো এই শত্রুতার জের থাকতে পারে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close