আলোচিতগাজীপুর

কালীগঞ্জে পুলিশের ধাওয়ায় শীতলক্ষ্যায় নিখোঁজ রাব্বির ‘আঘাতপ্রাপ্ত’ লাশ উদ্ধার

বার্তাবাহক ডেস্ক : কালীগঞ্জে পুলিশের ধাওয়ায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নিখোঁজ রাব্বি হাসানের (১৯) আঘাতপ্রাপ্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোর রাতে তুমুলিয়া ইউনিয়নের বড়িহাটি ও পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা সংলগ্ন এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।

লাশ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদিকুর রহমান।

নিহত রাব্বি হাসান তুমুলিয়া ইউনিয়নের টিউরি গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও নিহতের ফুফাতো বোন ফারহানা খালেক মিলি বলেন, গত মঙ্গলবার (২৭ জুলাই) রাতে বঙ্গবন্ধু বাজার এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা নৌযানে (জাহাজ) বসে রাব্বি হাসানসহ স্থানীয় কিছু কিশোর ও যুবক আড্ডা দিচ্ছিল। সে সময় কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল নৌযানে অভিযানে যায়। তখন পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা ছুটোছুটি করে পালিয়ে যায়। তবে রাব্বিকে পানিতে ফেলে দেয় পুলিশের সঙ্গে থাকা সোর্সরা। পরে শান্ত নামে এক সোর্স পানিতে নেমে রাব্বিকে পানিতে চুবাতে থাকে। শান্ত পানি থেকে পাড়ে উঠে আসে কিন্তু রাব্বি নিখোঁজ হয়। রাব্বির সাথে থাকা অন্যদের মধ্যে ছিল টিউরি এলাকার জিহাদ(১৭), তায়েব(১৮), রিয়াদ(১৬) এবং ভাদার্ত্তী এলাকার ফারুকের ছেলে রনি(১৮) ও একই এলাকার রাফি(১৮) সহ আরও ১৫-২০ জন।

পুলিশের সোর্স সাইদুল ইসলাম শান্ত ও ইকবাল।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার দুপুর পৌনে ১২টা থেকে দিনব্যাপি কালীগঞ্জ ও টঙ্গীর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেও নিখোঁজ রাব্বির সন্ধান করতে পারেনি। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) ভোর রাতে তুমুলিয়া ইউনিয়নের বড়িহাটি ও পার্শ্ববর্তী রূপগঞ্জ উপজেলার কলিঙ্গা সংলগ্ন এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসমান থাকা অবস্থায় লাশ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দেয়া হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করেন। রাব্বির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শরীরের কয়েক স্থানে রক্ত জমাট হয়েছে এবং চামড়া উঠে গেছে। অভিযানে পুলিশের সোর্স হিসেবে অংশ নিয়েছিল ছিল ভাদার্ত্তী এলাকার নজরুলের ছেলে সাইদুল ইসলাম শান্ত (২৩), কাশেমের ছেলে ইকবাল(২৬) এবায়দুল্লার ছেলে রাফি (২০), জামালপুর এলাকার রানা (৩০) এবং বালীগাঁও এলাকার নাদিম (৩০)। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে শান্ত ও সাজেদকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও বুধবার বিকেলে তারা বাড়ি ফিরে আসে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, বঙ্গবন্ধু বাজার এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে সবসময় বেশ কিছু জাহাজ নোঙর করে রাখা থাকে। এসব জাহাজে বিভিন্ন ধরনের অপকর্ম হয়।

পুলিশের সোর্স ইকবাল বুধবার বলেছিলেন, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে থাকা একটি জাহাজে বেশ কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ীসহ প্রায় ১৫-২০ জন যুবক অবস্থান করছিল। সে সময় কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ: ছামাদ এবং পুলিশের সহযোগী হিসেবে আমিসহ শান্ত, নাদিম ও রানা শীতলক্ষ্যা নদীর তীরে যাই। পরে রানাকে মাদক কেনার জন্য জাহাজে পাঠানো হয়। এর কিছু সময় পর জাহাজে দুই পক্ষের মধ্য মারামারি লাগে। সে সময় আমারা জাহাজে ধাওয়া দিলে কয়েকজন পালিয়ে যায়, রাব্বিসহ কয়েকজন নদীতে লাফ দেয়। তখন রাব্বিকে ধরতে শান্ত ও রানাও নদীতে লাফ দেয়। পরে শান্ত ও রানাকে উদ্ধার করতে আমিও নদীতে নামি। আমারা নদী থেকে পাড়ে উঠে আসলেও রাব্বিকে আর ধরতে পারিনি। এরপর নদীর পাড়ে কয়েক ঘন্টা অপেক্ষা করে আমরা চলে আসি।

অভিযানে থাকা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহীদুল ইসলাম এবং সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ: ছামাদ বুধবার বলেছেন, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বঙ্গবন্ধু এলাকায় শীতলক্ষ্যা নদীতে নোঙর করা একটি জাহাজে মাদক উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সে সময় রাব্বি নামে এক তরুণ নদীতে ঝাঁপ দিয়ে পালিয়ে যায়। অভিযানে পুলিশের সোর্স হিসেবে নয় পুলিশের সহযোগী হিসেবে শান্ত, ইকবাল, রাফি, নাদিম ও রানাও আমাদের সঙ্গে ছিল।

সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আ: ছামাদ আরো বলেন, মঙ্গলবার রাতে ঘটনাস্থল থেকে শান্ত ও সাজেদ নামে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে প্রসিকিউশন মূলে ১৫১ ধারায় বুধবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।

কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাদিকুর রহমান বলেন, ’’বৃহস্পতিবার ভোরে রাব্বির লাশ অর্ধগলিত অবস্থান শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসতে দেখে স্থানীয়রা থানায় খবর দেয়। পরে লাশ উদ্ধার ​করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের শরীরে আঘাতের কোন  চিহ্ন নেই বলে দাবি করেন তিনি’’।

কালীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close