আলোচিতবিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

পেগাসাস অপব্যবহারের দায় নিতে রাজী নয় এর নির্মাতা

বার্তাবাহক ডেস্ক : বিতর্কিত স্পাইওয়্যার পেগাসাসের ব্যবহারবিষয়ক কোনো দায় নিতে রাজী নয় এর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এনএসও গ্রুপ। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এটা অনেকটা মাতাল চালকের কারণে ঘটা দুর্ঘটনায় দায় গাড়ি নির্মাতার ওপার চাপনোর মতো।

অধিকার কর্মী, রাজনীতিবিদ এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বেলায় এই স্পাইওয়্যার অপব্যবহারের কারণে আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

এর লক্ষবস্তু হিসেবে ৫০ হাজার ফোন নম্বরের তালিকা প্রকাশ হয়ে পড়ায় তদন্ত শুরু হয়েছে, যদিও এর অল্প সংখ্যকের বেলাতেই এখন পর্যন্ত হ্যাকিংয়ের প্রমাণ মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্রেখ করেছে বিবিসি।

পেগাসাস আইফোন এবং অ্যান্ড্রয়েড ফোনকে আক্রমণ করে সেখান থেকে মেসেজ, ছবি এবং ইমেইল সংগ্রহ করতে, কল রেকর্ড করতে এবং গোপনে মাইক্রোফোন এবং ক্যামেরা ব্যবহার করতে পারে।

এনএসও গ্রুপ বলেছে তাদের এই সফটওয়্যার কেবল অপরাধী এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবহারের জন্যই তৈরি করা এবং মানবাধিকার বিষয়ে উন্নত রেকর্ডযুক্ত দেশেই সামরিক, আইন প্রয়োগকারী এবং গোয়েন্দা সংস্থার জন্যই কেবল উন্মুক্ত করা হয়েছে।

কিন্তু ফরাসি সংবাদ মাধ্যম ‘ফরবিডেন স্টোরিজে’র নেতৃত্বে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের একটি জোট এই তালিকার ওপর ভিত্তি করে ডজন ডজন সংবাদ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ফোন নম্বরও ছিল এবং সম্ভবত তাকেও টার্গেট করা হয়েছিল।

এনএসও গ্রুপ বলেছে, তাদের সাইপ্রাসের সার্ভার থেকে তালিকাটি হাতছাড়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

এদিকে প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন- “প্রথমত, সাইপ্রাসে আমাদের সার্ভার নেই।”

“এবং দ্বিতীয়ত, আমাদের কাছে আমাদের গ্রাহকদের কোনও ডেটা নেই।”

“এবং তার চেয়েও বড় কথা, গ্রাহকরা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত নয়, কারণ প্রতিটি গ্রাহক আলাদা।”

“সুতরাং কোথাও এই জাতীয় তালিকা থাকার কথা নয়।”

“এবং সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রার সংখ্যার সঙ্গে পেগাসাসের কাজ করার পদ্ধতির কোনো মিল নেই।”

“এটি একটি অবাস্তব সংখ্যা” – মুখপাত্র বলেন।

“আমাদের গ্রাহকদের বছরে গড়ে ১০০ টি লক্ষ্য থাকে।”

“কোম্পানির শুরু থেকে হিসাব করলেও আমাদের ৫০ হাজার টার্গেট পাওয়া যাবে না।”

নিরাপত্তা সেবা

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নিরীহ লোকদের হ্যাক করার ক্ষেত্রে দমনমূলক বিভিন্ন সরকারকে সহায়তার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ওয়াশিংটন পোস্টের কলামলেখক জামাল খাশোগজির ঘনিষ্ঠরাও রয়েছেন।

তবে, এনএসও গ্রুপ অন্যান্য অভিযোগের সঙ্গে এটিও অস্বীকার করেছে।

এনএসও গ্রুপ বলছে, কাকে লক্ষ্য করা হয়েছে সে বিষয়ে তারা নিয়মিত তদন্ত করে না। তবে এটি যে নিরাপত্তা পরিষেবা বিক্রি করে তা নিরীক্ষা করার সিস্টেম রয়েছে।

এই মাসের শুরুতে এনএসও গ্রুপ তাদের স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, “আমাদের অবশ্যই নিজেদের উচ্চতর মানদণ্ডে ধরে রাখতে হবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালনা ও কাজ করতে হবে… মানবাধিকার এবং গোপনতার প্রশ্নে জননিরাপত্তা এবং উদ্বেগ আমলে নিতে হবে।”

এর পাশাপাশি বুধবার প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, “ধরুন আমরা একটি গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান। এখন গাড়ি নিয়ে মদ্যপ অবস্থায় কেউ গাড়ি চালালে এবং কাউকে আঘাত করলে আপনি কিন্তু গাড়ি নির্মাতাকে অভিযুক্ত করেন না। আপনি চালককে অভিযুক্ত করেন।”

“আমরা এই প্রযুক্তি সরকারের কাছে পাঠাই, এবং আমরা আইনগতভাবে এটি করি।”

“কিন্তু সমস্ত অভিযোগ এবং সমস্ত আঙুল গ্রাহকের দিকেই তাক করা উচিত।”

‘কাকতালীয়’

যাদের ফোন নম্বর তালিকায় রয়েছে তাদের মধ্যে ৬৭ জন ফরবিডেন স্টোরিজকে ফরেনসিক বিশ্লেষণের জন্য তাদের ফোন দিতে সম্মত হয়েছিলেন। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ল্যাবসের গবেষণায় ৩৭টি ফোনে পেগাসাসের সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানা গেছে।

তবে এনএসও গ্রুপ বলেছে যে তালিকার ওই ফোনগুলোয় কীভাবে স্পাইওয়্যারের চিহ্ন পাওয়া গেল সে বিষয়ে তাদের কোনও ধারণা নেই।

“এটি হয়তো কাকতালীয়”, মুখপাত্র বলেন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close