আন্তর্জাতিকআলোচিত

পেগাসাস আতঙ্কে পাক প্রধা‌নমন্ত্রী ইমরান খান

আন্তর্জাতিক বার্তা : পেগাসাস আতঙ্কে পাক প্রধা‌নমন্ত্রী ইমরান খান। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী ফাওয়াদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে ইমরানের ফোন। খতিয়ে দেখা হচ্ছে পেগাসাস তার ফোনও হ্যাক করেছিল কিনা।

সোমবারই এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন পাক তথ্যমন্ত্রী।

ফাওয়াদের কথায়, ”ভারত সরকার ইসরাইলের ওই সফটওয়্যার ব্যবহার করে যেভাবে সাংবাদিক, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের ওপরে নজরদারি চালিয়েছে বলে জানা গেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।” মোদি সরকারের ‘অনৈতিক নীতি’র নিন্দাও করেন তিনি। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ সোমবারই দাবি করেছিল, ইসরাইলের তৈরি পেগাসাসের নজরে পড়তে পারে এমন সম্ভাবনাময় নম্বরের তালিকা পাওয়া গেছে। যার মধ্যে রয়েছে এমন একটি নম্বর, যেটি একসময় ইমরান ব্যবহার করেছেন। আর তারপরই উদ্বেগে পাক সরকার।

ফাওয়াদ চৌধুরী জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকার ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। যদি জানা যায়, সত্যিই হ্যাক হয়েছিল পাক প্রধানমন্ত্রীর ফোন, তাহলে এই ইস্যুটি তারা যথোপযুক্ত জায়গায় উত্থাপন করবে। মঙ্গলবার সকালে সেদেশের ‘ডন’ সংবাদপত্রে এমনটাই জানানো হয়েছে।

ভারতীয় তদন্তকারী নিউজ ওয়েবসাইট দ্য ওয়্যার জানিয়েছে যে সরকারী মন্ত্রী, বিরোধী রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, বিজ্ঞানী ও অধিকারকর্মী – সহ ভারতে ব্যবহৃত ৩০০ টি মোবাইল ফোন নম্বর হ্যাক করা হয়েছে । হিন্দুস্তান টাইমস, দ্য হিন্দু এবং ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের মতো বড় প্রকাশনা থেকে ৪০ টিরও বেশি ভারতীয় সাংবাদিকের পাশাপাশি দ্য ওয়্যার-এর দুই প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদকের ফোন নাম্বারও তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মানবাধিকার মন্ত্রী শিরীন মাজারিও উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন ভারত সরকার নিজের মন্ত্রীদেরই ফোনে কীভাবে আড়ি পাতছিলো!

২০১৯ সালে হোয়াটসঅ্যাপ এনএসওর বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে একটি মামলা দায়ের করার সময়ে ভারত সরকার জানিয়েছিল তারা কোনো ইসরাইলি ম্যালওয়্যার ব্যবহার করে দেশের নাগরিকদের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করে না। ২০১৬ সাল থেকে এনএসও ৫০,০০০ এরও বেশি স্মার্টফোন নম্বরের তালিকা তৈরি করেছে নজরদারির জন্য।

ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, এনএসও গ্রুপের লাইসেন্সকৃত পেগাসাস স্পাইওয়্যারটি জামাল খাশোগির নিকটবর্তী দুই মহিলার ফোনকে টার্গেট করতেও ব্যবহার করা হয়েছিল, যিনি সৌদি কনস্যুলেটে কলামিস্ট ছিলেন। এই তালিকাতে একজন মেক্সিকান ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল, যিনি একটি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যান।

গার্ডিয়ানের দাবি , তদন্তে দেখা গেছে এনএসওর হ্যাকিং সফটওয়্যারটি ফটো এবং ইমেইল , কল রেকর্ডগুলো হ্যাক করতে সক্ষম এবং গোপনে মাইক্রোফোনগুলো সক্রিয় করে দেয়ার ক্ষমতা রাখে । এজেন্সি ফ্রান্স-প্রেস, দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সিএনএন, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, আল জাজিরা, ফ্রান্স ২৪, রেডিও ফ্রি ইউরোপ, মিডিয়াপার্ট, এল পাইস, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি), লে মোন্ডি, ব্লুমবার্গ, দ্য ইকোনমিস্ট, রয়টার্স এবং আমেরিকা ভয়েস – এদের সবার ওপরেই পেগাসাস থাবা বসিয়েছিলো বলে জানাচ্ছে গার্ডিয়ান।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close