আলোচিত

গাজীপুরে বন বিভাগের জ্ঞাতসারেই বনভূমি দখল

আলোচিত বার্তা : বিশাল বিস্তৃত শালবন ও গজারি বন। মাঝে কোথাও কোথাও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি। ওই জমিতে একসময় রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রিসোর্টের পরিসর বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে বনভূমি দখলের মাত্রাও। আর দখল হয়েছে একেবারে সংরক্ষিত বনাঞ্চলে, বন বিভাগের জ্ঞাতসারেই।

বনভূমি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৮২ সালে ভাওয়াল অরণ্যকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু রক্ষা তো হচ্ছেই না, বরং দিন দিন বেদখল ও বিপন্ন হতে চলেছে গাজীপুর সদরসহ কয়েকটি উপজেলায় বিস্তৃত এ বনভূমি। কেবল কালিয়াকৈর উপজেলাতেই বিভিন্ন ধরনের ১৬টি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট রয়েছে। এসব রিসোর্টের প্রতিটিই কোনো না কোনোভাবে বন বিভাগের জমি জবরদখল করে নির্মিত ও বিস্তৃত হয়েছে। বন বিভাগের একশ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রচ্ছন্ন সহায়তায় এসব রিসোর্টের ব্যবসা বিস্তৃত হয়েছে।

গাজীপুর সদর, কালিয়াকৈর ও শ্রীপুরে বন বিভাগের সম্পত্তি দখল করে নির্মিত সাতটি রিসোর্টের তালিকা খোদ বন বিভাগ থেকেই সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনকে দেয়া হয়েছে।

সরেজমিন দেখা গেছে, বনভূমি দখলের অভিযোগ রয়েছে যেসব রিসোর্টের বিরুদ্ধে, সেসব রিসোর্টের প্রবেশ ও চারপাশে এখনো বিস্তীর্ণ প্রাকৃতিক বন রয়েছে। পরে বনের জায়গা সমতল করে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। জানা গেছে, যেসব জমিতে রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে, তার একটি বড় অংশ একসময় প্রাকৃতিক বন ছিল। বনের মাঝে বিচ্ছিন্নভাবে ব্যক্তিমালিকানাধীন কিছু সম্পত্তি ছিল। মালিকদের নানাভাবে প্রলুব্ধ করে ওই জমি কিনে পরে সেখানে রিসোর্ট তৈরি করা হয়েছে। শুরুতে রিসোর্টগুলোর পরিসর ছোট থাকলেও পরবর্তী সময়ে সেগুলোর আয়তন ক্রমেই বেড়েছে বলে সূত্র জানায়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব রিসোর্ট তৈরির আগে কারখানা অথবা হাসপাতাল নির্মাণের কথা বলে তাদের কাছ থেকে জমি কেনা হয়। পরে তা না করে জমিতে রিসোর্ট বা পিকনিক স্পট করা হয়। যদিও কারখানা বা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠান হলে নিজেদের বংশধরদের চাকরির সুযোগ হবে, এ আশায় তারা জমি বিক্রি করেছিলেন।

২৬ বছর বয়সী স্থানীয় যুবক দুলাল জানান, ছোটবেলায় তিনি নিজেও এখন যেখানে রিসোর্ট, সেখানে বিস্তৃত গজারি ও শালবন দেখেছেন। পরে ওই বনের জমি সমতল করে রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে।

গাজীপুরে বন বিভাগের ও সরকারি সম্পত্তি দখল করে রিসোর্ট ও বাগানবাড়ি করার অভিযোগ অনুসন্ধানে সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বন বিভাগের কাছে দখলদারদের নাম ও দখলকৃত জমির পরিমাণ জানতে চিঠি পাঠায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি বন বিভাগ থেকে দখলদারদের একটি তালিকা দেয়া হয়েছে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক অবৈধভাবে ভূমি দখলের বিষয়টি উঠে এসেছে।

দুদকের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এসব রিসোর্ট মালিকের বেশির ভাগই প্রতি শতাংশ ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা করে জমি কিনেছেন বলে জমির দলিলে উল্লেখ রয়েছে। আবার বছরের পর বছর এসব সরকারি সম্পত্তি উচ্ছেদে কোনো ধরনের উদ্যোগও নেয়া হয়নি বন বিভাগের পক্ষ থেকে।

জানতে চাইলে দুদকের পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সৈয়দ ইকবাল হোসেন বলেন, অভিযোগটি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। এ নিয়ে বেশি কিছু বলার সুযোগ নেই।

বন বিভাগ যে তথ্য পাঠিয়েছে, তাতে সাত প্রতিষ্ঠান বন বিভাগের জমি দখল করে রিসোর্ট পরিচালনা করছে বলে জানা গেছে। তবে দুদকের অনুসন্ধান শুরু হওয়ার পর একটি প্রতিষ্ঠান দখলকৃত জমি ফিরিয়ে দিয়েছে এবং অন্য একটি প্রতিষ্ঠান ফিরিয়ে দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বন বিভাগের তালিকা অনুযায়ী যারা বনের জমি দখল করে রিসোর্ট ব্যবসা পরিচালনা করছে, তাদের মধ্যে আছে সোহাগ পল্লী পিকনিক স্পট, যার মালিকানায় নাম রয়েছে আব্দুল জলিলের।

তথ্যমতে, সোহাগ পল্লী পিকনিক স্পট সবচেয়ে বেশি জায়গা দখল করেছে। প্রতিষ্ঠানটির দুটি মৌজার অনুকূলে মোট দখলকৃত জমির পরিমাণ ২ দশমিক ৪ একর। বন বিভাগের তথ্য বলছে, মৌজা-৪২৬ নং সিনাবহ, সিএস দাগ নং-৬৭, ৬৯ ও ৭৪ আরএস দাগ নং-২২, ১১ ও ৬৮ উপজেলা কালিয়াকৈরের অনুকূলে ১ দশমিক ৭২ একর জমি দখল করে রেখেছে সোহাগ পল্লী পিকনিক স্পট। ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তরের পত্র নং-৪০১/৮-৮৬ তারিখ ২-২-২০১০ ইং মূলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হয় এবং ২০১৫ সালে আবারো অনুরোধ জানিয়ে চিঠি দেয়া হয়। জবরদখলকৃত বনভূমির তফসিল সংশোধনপূর্বক পুনরায় ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হয়। এছাড়া বনভূমি দখলের অভিযোগে বন মামলাও করা হয়েছে। একই রিসোর্ট মালিক মৌজা-৪২৫ নং ভুলুয়া, সিএস দাগ নং-৩, ৮ ও ৪ আরএস দাগ নং-৩, ১৭ ও ৮ উপজেলার দশমিক ৬৮ একর জমি দখলে রেখেছে। বনের এ ভূমি দখলদার উচ্ছেদেও গাজীপুরের জেলা প্রশাসককে চিঠি দেয়া হয় ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে, পরে আবার ২০১৫ সালের অক্টোবরে চিঠি দেয়া হয়। এ জমি উদ্ধারেও বন মামলা করেছে বন বিভাগ।

সোহাগ পল্লীর জেনারেল ম্যানেজার শহীদ আহমেদ জানান, বন বিভাগ যদি মনে করে, তাদের জমি দখল করে তারা ব্যবসা করছে, তাহলে তারা তাদের জমি বুঝে নিয়ে যাক।

তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন সময় ব্যক্তিমালিকানায় থাকা জমিগুলো কিনে তারা রিসোর্ট ব্যবসা শুরু করেছেন। এসব জমির ক্রয়সূত্রে তাদের প্রতিষ্ঠান মালিক। বনের জমি দখল করে তারা ব্যবসা পরিচালনা করছেন না বলে দাবি করেন। তিনি আরো বলেন, বনের জমি জবরদখলের অভিযোগে দুদক তাদের ডেকেছিল। দুদকের কাছে তাদের মালিকানার পক্ষের সব কাগজপত্র জমা দিয়েছেন।

বনভূমি দখল করে কার্যক্রম পরিচালনাকারী শিল্পী কুঞ্জ পিকনিক স্পটের মালিক হিসেবে আছেন খোরশেদ আলম বাবুল। তথ্যমতে, শিল্পী কুঞ্জ পিকনিক স্পট কালিয়াকৈর উপজেলার মৌজা-৪২৭ নং কালামপুর, সিএস দাগ নং-১৭৭, ১৯৮, ১৯০ ও ১৬৭-এর দশমিক ২০ একর বনভূমি দখলে রেখেছে। এ দখল উচ্ছেদে ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারিতে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হয়। পরে ২০১৫ সালের অক্টোবরে আবারো চিঠি পাঠানো হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মামলায় সরকারপক্ষে রায় হয়। জবরদখলকৃত বনভূমির তফসিল সংশোধনপূর্বক পুনরায় বিভাগীয় ঢাকা বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হয়।

বনভূমি দখল করে রাঙ্গামাটি ওয়াটার ফ্রন্ট রিসোর্টের মালিকানায় আছেন রফিকুল ইসলাম। এক একর বনের ভূমি দখলে রেখেছেন তারা। এ নিয়ে গাজীপুরের বন আদালতে পিওআর ৩১/চন্দ্র অব ২০১৫-১৬ চলমান। দেওয়ানি মো. ২২/১৬ অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা মোকদ্দমা চলমান। ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০১৭ সালে ডিসেম্বরে দখলদার উচ্ছেদে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এছাড়া বনভূমি দখলের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে একটি বন মামলাও করা হয়েছে।

আরণ্যক বাংলো বাড়ির মালিকানায় সোজেল আহমেদ। আরণ্যক বাংলো বাড়ি দশমিক ২২ একর বনের ভূমি দখলে রেখেছে। ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০১৩ সালের আগস্টে দখলদার উচ্ছেদে গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। গাজীপুরের বন আদালতে পিওআর ০৫/সাল/৩৮/রাজ অব ২০১৪-১৫ চলমান। পিওআর বন মামলা নং-০৫/সাল/৩৮/রাজ অব ২০১৪-১৫ চলমান। জবরদখলকৃত বনভূমির তফসিল সংশোধনপূর্বক পুনরায় ঢাকার বিভাগীয় বন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে ২০১৭ সালের ৭ ডিসেম্বর গাজীপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে উচ্ছেদ প্রস্তাব পাঠানো হয়।

একইভাবে মমতাজ পিকনিক স্পট দশমিক ৪১ একর বনের ভূমি দখলে রেখেছে। দখলদার উচ্ছেদে পিওআর বন মামলা করা হয়েছে। মমতাজ পিকনিক স্পটের মালিক আমজাদ হোসেন রিসোর্টের জমি তার পৈতৃক সম্পত্তি বলে দাবি করেন।

তিনি বলেন, জমির মালিকানায় তারা দুই ভাই ও চার বোন রয়েছেন। বন বিভাগ বিভিন্ন সময় এসে জমি পরিমাপ করে গেছে, কিন্তু দখলের কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি বলে তিনি জানান।

বন বিভাগ তাদের জায়গা বুঝে নিতে চাইলে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে বলে জানান গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ড. দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ুন কবীর। তিনি বলেন, বনের জায়গা দখল করে রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট উচ্ছেদ করে বন বিভাগ তাদের জায়গা বুঝে নিতে চাইলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তা দেয়া হবে।

গত বছরের আগস্টে গাজীপুর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ জানিয়েছিলেন, গাজীপুরের অনেক সরকারি সম্পত্তি, বিশেষ করে বন বিভাগের সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ প্রতিনিয়তই কমিশনে আসছে। ভূমি আত্মসাতের সঙ্গে ভূমিদস্যুদের পাশাপাশি কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তাদের সহযোগিতার অভিযোগও কমিশনে আসছে। এসব অভিযোগ সত্য কিনা, তা আমরা জানি না। তবে এ-জাতীয় অভিযোগ কমিশনের তফসিলভুক্ত অপরাধ। এ-জাতীয় কিছু অভিযোগ কমিশন অনুসন্ধান করেছে এবং কোনো ক্ষেত্রে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

জানা গেছে, ১৯৫০ সালে প্রজাস্বত্ব আইনে বনটি সরকারের হাতে নেয়া হয়। তারপর এটি বন বিভাগকে বুঝিয়ে দিতে বলা হলেও স্থানীয় জেলা প্রশাসন আজো তা করেনি। বরং বিভিন্ন সময় বনভূমি ব্যক্তিমালিকানায় বন্দোবস্ত দিয়েছে আর ভূমি দপ্তরের মাধ্যমে বনের জমি দখলদারদের নামে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে শুধু উঁচু স্থানের জমিগুলোকে রক্ষা করা হয়েছে। আর নিচু জমিগুলোকে বিভিন্ন সময় ইজারা ও বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে দখলের প্রবণতাটা শুরু হয়েছে তখন থেকেই। নিচু জমির এসব ইজারাপ্রাপ্ত ধীরে ধীরে বনাঞ্চল উজাড় শুরু করে। পর্যায়ক্রমে এ অঞ্চলের জমি দেশের মানুষের কাছে মূল্যবান হয়ে ওঠে। ফলে এক দশকের ব্যবধানে বনের পাঁচ ভাগের চার ভাগই এরই মধ্যে উজাড় হয়ে গেছে। আগে গাজীপুরের শালবনে বনমোরগ, শজারু, খরগোশ, বেজি, বিভিন্ন প্রজাতির বানর ও বুনো শূকরসহ অন্যান্য প্রাণীর দেখা মিলত। বন উজাড় হওয়ার পাশাপাশি এসব প্রাণীও উধাও হয়ে গেছে।

প্রায় ছয় দশক আগে প্রজাস্বত্ব আইনের মাধ্যমে সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণে আসে গাজীপুরের ভাওয়াল বন। আর বনটি রক্ষার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৮২ সালে ভাওয়াল অরণ্যকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করে সরকার। কিন্তু বনটি রক্ষা তো হচ্ছেই না, উল্টো বিপন্নতার পথে এ অঞ্চলের বনাঞ্চল। বেসরকারি ও ব্যক্তিখাতের মাধ্যমে বনাঞ্চল দখল ও দ্রুত নগরায়ণ, বন বিভাগের তদারকির অভাব, দুর্নীতি ও অদক্ষতা, গাছ কাটা ও রক্ষণাবেক্ষণে অসচেতনতাকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালায়ের সচিব আবদুল্লাহ আল মোহসীন চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে বন অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের জমি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। নিজেদের সম্পদ রক্ষার্থে মামলা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

সূত্র: বণিক বার্তা

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close