আলোচিতগাজীপুরসারাদেশ

কালীগঞ্জে “কিশোর গ্যাং”এর পাঁচ সদস্য আটকের প্রায় ৩৩ ঘন্টা পর থানা থেকেই মুক্ত!

বার্তাবাহক ডেস্ক : কালীগঞ্জে পুলিশের কথা মতো নির্যাতিত এক কিশোরকে সহযোগিতা করতে গিয়ে “কিশোর গ্যাং”এর হামলার শিকার হয়েছেন এক ব্যবসায়ীসহ কয়েকজন। পরে ঘটনাস্থল থেকে ‘কিশোর গ্যাং’ এর পাঁচ সদস্যকে ধরে থানায় নিয়ে প্রায় ৩৩ ঘন্টা আটকে রাখার পর বুধবার (৪ জুলাই) মধ্যেরাতে পরিবারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
গত ৩ জুলাই (শনিবার) সকালে কালীগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের চুয়ারিখোলা এলাকায় কিশোর গ্যাং হামলা ওই ঘটনা ঘটিয়েছিল।
স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যস্থতায় থানায় ঘটনার সমঝোতা হয় বলে জানা গেছে।
আটকের পর ছাড়া পাওয়া কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা হলো, চুয়ারীখোলা এলাকার ইয়াজউদ্দিন সরকারের ছেলে সবুজ সরকার (২০) ও আসিফ সরকার (১৮)। এছাড়াও তাদের সহযোগী কিশোর গ্যাং মোফাজ্জল, শেখ মোহম্মদ ও সুমন। সকলের বয়স ১৭-২০ এর মধ্যে। তাদের বাসা টঙ্গী এলাকায়।
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী চুয়ারিখোলা এলাকার মৃত কফিল উদ্দিন সরকারের ছেলে মাবজুল সরকার (৪৮)। তিনি তুমুলিয়া মিশন এলাকায় থাকা একটি খাবার হোটেলের স্বত্বাধিকারী।
অপর ভুক্তভোগীরা হলো একই এলাকার কাজী দেলোয়ারের ছেলে কাজী মারুফ (২৪) ও তার গর্ভবতী স্ত্রী নিশিতা আক্তার(২০) এবং তার ভাই ইয়ামিন সরকার(১৫)।
থানায় দায়ের করা এজাহার ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক বিরোধ ও একটি মোবাইল ফোন ভেঙ্গে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ৩ জুলাই (শনিবার) সকাল আনুমানিক সোয়া সাতটা দিকে চুয়ারিখোলা এলাকার ইয়াজ উদ্দিন সরকারের বাড়িতে ইয়ামিন সরকারকে গাছের সঙ্গে বেঁধে দীর্ঘ সময় মারধর ও নির্যাতন করে ইয়াজ উদ্দিন সরকার। বিষয়টি জেনে ইয়ামিনের বোন নিশিতা আক্তার ও তার স্বামী কাজী মারুফ ঘটনাস্থলে গেলে তাদেরকেও আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে তাদেরকে ধরিয়ে দিতে ইয়াজ উদ্দিনের পরিবারের লোকজন জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ কল করে। এর কিছু সময় পর সকাল ৯ টার দিকে ঘটনাস্থলে যান কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম (২)।
পরবর্তীতে ঘটনা তদন্তের এক পর্যায়ে পার্শ্ববর্তী মাবজুলকে ডেকে নিয়ে ঘটনার বিষয়ে জানতে চায় পুলিশ। তিনি ঘটনার বিস্তারিত বলেন। এরপর আহত তিন জনকে উদ্ধার এবং তাদেরকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দিতে মাবজুলের সহযোগিতা চায় পুলিশ। এরমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সড়কে গিয়ে গাড়িতে অপেক্ষা করতে থাকে পুলিশ।
পরে পুলিশের কথা মতো আহত তিনজনকে পুলিশের গাড়ি উঠিয়ে দিতে যাওয়ার পথে “কিশোর গ্যাং”-এর সদস্য অভিযুক্ত সবুজ ও আসিফসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৮-১০ জন কিশোর গ্যাং মিলে মাবজুলকে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদেরকে মারধর করে। খবর পেয়ে পেয়ে পুলিশ তাদের সকলকে উদ্ধার এবং কিশোর গ্যাং সবুজ সরকার, আসিফ সরকার এবং মোফাজ্জল, শেখ মোহম্মদ ও সুমনকে আটক করে। কিশোর গ্যাং-এর অন্য সদস্যরা পালিয়ে যায়। পরে দুপুর দুইটার দিকে তাদের থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এরপর আহতরা কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন।
ওই ঘটনায় আটক কিশোর গ্যাং-এর পাঁচ সদস্যসহ জড়িত ইয়াজ উদ্দিন সরকার ও তার স্ত্রী রওশন আরা বেগম (৫০) ও তার মেয়ে শ্যামলী (২২) এবং অজ্ঞাত কিশোর গ্যাং-এর আরো ৮-১০ জনের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী মাবজুল সরকার ও কাজী মারুফ বাদী হয়ে থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
ভুক্তভোগীরা কাজী মারুফ বলেন, ইয়ামিনকে মারধর ও নির্যাতনের খবর শুনে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর আমার গর্ভবতী স্ত্রীসহ আমাকে মারধর করে। পরে পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা পূণরায় আমাদের উপর হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় রোববার সকালে আমি বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি। রোববার রাতে স্থানীয় লোকজন, কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশ মিলে আমাদের সঙ্গে ঘটনার সমঝোতা করে এবং তাদের ছেড়ে দিয়েছে।
তবে তিনি সাংবাদিকদের নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী মাবজুল সরকার বলেন, পুলিশের কথা মতো সহযোগিতা করতে গিয়ে কিশোর গ্যাং-এর হামলার শিকার হয়েছি। পরে জড়িত কিশোর গ্যাং-এর পাঁচ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ ঘটনায় আমি বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি। জড়িত কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা টঙ্গী থেকে ইয়াজ উদ্দিন সরকারের বাড়িতে এসেছিল।
তিনি আরো বলেন, পরবর্তীতে সকলের অনুরোধে স্থানীয় কয়েকজন সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যস্থতায় থানায় আমাদের মধ্যে সমঝোতা হয়। পরে রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে কিশোর গ্যাং-এর সদস্যেদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
তিনিও মধ্যস্থতাকারী সাংবাদিকদের নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানায়।
তুমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৩নং ওয়ার্ডের সদ্য নির্বাচিত সদস্য সাদেকুর রহমান ভুক্তভোগীদের বরাদ দিয়ে বলেন, শনিবার সকালে ইয়ামিনকে মারধরের ঘটনায় পুলিশ আসে। পরে ঘটনা তদন্ত শেষে পুলিশ ফিরে যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাং-এর সদস্যরা পূণরায় হামলায় চালায়। এতে ইয়ামিনসহ চারজন আহত হয়। এছাড়াও কিশোর গ্যাং-এর পাঁচ জনকে পুলিশ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। রোববার মধ্যেরাতে সমঝোতার ভিত্তিতে তাদের আবার ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাইফুল ইসলাম (২) বলেন, “শনিবার সকালে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বার থেকে কল পেয়ে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করি। পরে ওই দিন দুপুরে জড়িত পাঁচ কিশোরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।”
তিনি আরো বলেন, “সমঝোতার ভিত্তিতে রোববার মধ্যেরাতে ওই কিশোরদের পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেয়া হয়েছে।”
“তবে আটক ওই পাঁচজন “কিশোর গ্যাং” নয় বলে দাবি করেন তিনি।”
আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close