আলোচিতসারাদেশ

অনুদান পেতে বসুন্ধরার এমডিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে সাংবাদিকরা!

বার্তাবাহক ডেস্ক : দেশের সাংবাদিক সংগঠনগুলো অনুদানে চলে, কেউ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত না হলে তার কাছ থেকে অনুদান নিতে বাধা নেই, তাছাড়া বসুন্ধরা আগেও অনুদান দিয়েছে- এই যুক্তিতে কোম্পানির এমডিকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্র্যাব)৷

দেশের প্রায় ২৫০ জন অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকের সংগঠন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্র্যাব)-এর সভাপতি এবং সদস্যদের অনেকে বলেছেন কলেজ ছাত্রী মুনিয়া আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় অভিযুক্ত বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরকে শুভেচ্ছা জানানোর সঙ্গে সংগঠনটির সম্পর্ক নেই।

এদিকে মুনিয়ার মৃত্যুর পর আত্মহত্যার প্ররোচনার উপাদান পাওয়ার কথা বলেছিল পুলিশ। কিন্তু এক মাসের বেশি পার হয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত আনভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ এখন নিহত ও অভিযুক্তের আগের সম্পর্ক ও মানসিক চাপ ইত্যাদির বিষয়ে তদন্ত করে নিশ্চিত হতে চাচ্ছে।

ক্র্যাবের ভাবমূর্তি ক্ষুন্নের অভিযোগ তুলে সংগঠনটির কোনো কোনো সদস্য পদত্যাগেরও ঘোষণা দিয়েছেন।

সে রকমই ক্ষুব্ধ একজন ক্র্যাব সদস্য নুরুজ্জামান লাবু বলেন, “এটা শুধু ক্রাইম রিপোর্টার নয়, বরং সব সাংবাদিকের ভাবমূর্তির ওপর আঘাত।” তার মতে, একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে শুভেচ্ছা জানানো ঠিক হয়নি। তিনি কনভিক্টেড না হলেও মুনিয়ার আত্মহত্যার ঘটনায় তাকে নিয়ে অনেক বিতর্ক হচ্ছে। আর অনেক সংবাদমাধ্যমই ঘটনাটি নিয়ে তেমন কোনো প্রতিবেদন করেনি, যা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেন, “এমনিতেই সাংবাদিকতা নিয়ে বাংলদেশে অনেক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। ঠিক তখন মুনিয়ার ঘটনায় প্রতিবেদন করার দায়িত্বপ্রাপ্ত সেই ক্রাইম রিপোর্টাররাই যদি সায়েম সোবহানকে শুভেচ্ছা জানান তাহলে তো আরো প্রশ্ন উঠবে। আমার মতে এই ঘটনায় মামলার তদন্তও বাধাগ্রস্ত হতে পারে।”

এই শুভেচ্ছা জানানোর পেছনে ব্যক্তিগতভাবে কারুর অর্থ ও সুবিধার যোগ আছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন আরিফ দাবি করেন, “তাকে শুভেচ্ছা জানানোর পেছনে প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ ছাড়া আর কোনো স্বার্থ নাই। যারা বলছে, তারা প্রমাণ করুক।”

ক্র্যাব তাহলে কী সুবিধা পেয়েছে? এই প্রশ্নের জবাবে আলাউদ্দিন আরিফ বলেন, “তিনি আগেও আমাদের অনুদান দিয়েছেন। এবারও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কী দেবেন তা বলতে চাই না।” তার কথা, “সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো অনুদানেই চলে। আরো অনেক সংগঠন তার কাছ থেকে অনুদান নেয়। মামলা হওয়ার পরও ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নিয়েছে। তাদের নিয়ে তো কোনো কথা হচ্ছে না।”

কিন্তু ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খান বলেন, “ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদক মিথ্যাচার করছেন। সায়েম সোবহানের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর আমরা কোনো অনুদান নেইনি। ক্র্যাবের সাধারণ সম্পাদকের বক্তব্য ডিআরইউর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে।”

১৫ সদস্যের নির্বাহী কমিটির সদস্যদের মধ্যে সায়েম সোবহানকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলেন ক্র্যাবের সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাত জন সদস্য। সভাপতি মিজান মালিকসহ আট জন সদস্য যাননি।

মিজান মালিক বলেন, “যারা গিয়েছেন তারা ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছেন। তাকে শুভেচ্ছা জানানো ক্র্যাবের নিদ্ধান্ত নয়। এর সাথে ক্র্যাবের কোনো সম্পর্ক নাই। তবে তারা যাওয়ার পর ক্র্যাবের নামে প্রেস রিলিজ ও ছবি দিয়ে ঠিক করেননি। এতে সংগঠনের ভাবর্মূতি ক্ষুন্ন হয়েছে। আমি জরুরি বৈঠক ডেকেছি। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

যারা গিয়েছেন তারা কোনো ব্যাক্তিগত সুবিধা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আমার কাছে এরকম কোনো অভিযোগ আসেনি।”

তবে সাধারণ সম্পাদক দাবি করেন ,”নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্তেই আমরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছি। সভাপতির আরেকটি অ্যাপয়নমেন্ট থাকায় তিনি যাননি।” তার আরো কথা ,”ক্র্যাবের গঠনতন্ত্রে শুধু আদালতে দণ্ডপ্রাপ্তদের কাছ থেকে অনুদান নেয়ায় বাধা আছে। সায়েম সোবহান তো দণ্ডপ্রাপ্ত নন।” আর এতে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হওয়ার প্রশ্নে তিনি বলেন, “সাংবাদিকদের সব সংগঠনই এভাবে অনুদান নিয়ে চলে। এটা নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নাই। কনভিক্টেড না হলে ভবিষ্যতেও সায়েম সোহানের সাথে আমাদের সংগঠনের সহযোগিতার সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।।”

গত ২৭ এপ্রিল গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে কলেজ ছাত্রী মোশারাত জাহান মুনিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে গুলশান থানায় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের বিরুদ্ধে মামলা হয়।

মামলার পর গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বলেছিলেন, আত্মহত্যায় প্ররোচনার উপাদান তারা পেয়েছেন। কিন্তু এক মাসের বেশি পার হয়ে গেলেও আনভীরকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। সুদীপ কুমার চক্রবর্তী বৃহস্পতিবার ডয়চে ভেলেকে জানান, “আইনে গ্রেপ্তারে কোনো বাধা না থাকলেও আমরা তদন্ত করে বিষয়টি পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়ার কাজ করছি। তাদের পূর্বের সম্পর্ক, মানসিক চাপের কারণ এগুলো নিয়ে তদন্ত হচেছ। ”

তার মতে, আত্মহত্যার প্ররোচনার দুইটি দিক আছে, ইনটেনশন অর্থাৎ উদ্দেশ্য এবং ইনিস্টিগেশন অর্থাৎ উসকানি। এই দুইটি দিকই তারা দেখছেন।

সায়েম সোবহান আনভীরের প্রকাশ্যে চলাফেরা তদন্তে কোনো চাপ সৃষ্টি করছে কিনা জানতে চাইলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “না, কোনো চাপ তৈরি হচেছ না।”

বুধবার ক্র্যাব নেতারা শুভেচ্ছা জানাতে গেলে নারী পাচার রোধ ও মাদকের বিরুদ্ধে গণামাধ্যমকর্মীসহ সকলকে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানান সায়েম সোবহান।

 

সূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close