আলোচিতসারাদেশ

স্থগিত ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভায় ভোটগ্রহণ জুনে

বার্তাবাহক ডেস্ক : করোনাভাইরাস সংক্রমণ বৃদ্ধিতে স্থগিত লক্ষ্মীপুর-২ আসনে উপনির্বাচন, প্রথম ধাপের ৩৭১টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) ও ১১টি পৌরসভায় জুন মাসেই ভোটগ্রহণ করা হবে। স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে ভোটের তারিখ জুনের প্রথমদিকে জানিয়ে দেবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

একবার ঘোষণা হওয়ায় সেগুলোতে আর তফসিল হবে না। শুধু প্রার্থীদের প্রচারের জন্য সময় দেওয়া হবে। এছাড়া জাতীয় সংসদের শূন্য হওয়া অপর তিনটি আসন- সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ এ ভোট হবে মধ্য জুলাইয়ে। দ্বিতীয় ধাপের ইউনিয়ন পরিষদের ভোট হবে জুলাইয়ের শেষদিকে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের ৮০তম সভায় প্রাথমিকভাবে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ২ বা ৩ জুন কমিশন সভায় চূড়ান্ত করা হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এসব তথ্য জানিয়েছে।

বৈঠক সূত্র আরও জানায়, আগস্ট মাসে নির্বাচন কমিশন কোনো ধরনের ভোটের আয়োজন করবে না। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈঠকে যেসব নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাবে-সেসব নির্বাচন বাতিলের বিষয়ে কমিশনের এখতিয়ার নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। বিষয়টি পরবর্তী কমিশন সভায় আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। লক্ষ্মীপুরের রায়পুরা পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়মের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদনকে কেন্দ্র করে এ বিতর্ক ওঠে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদার সভাপতিত্বে ইসি সচিবালয়ে রুদ্ধদ্বার এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী, ইসি সচিব ও অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার বৈঠকে ছিলেন না। বৈঠকে সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম যুগান্তরকে বলেন, সংসদীয় শূন্য আসন ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোর ভোটের তারিখ ফাইনাল (চূড়ান্ত) করা হয়নি। আগামী দুই বা তিন জুন অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় এটি চূড়ান্ত হবে।

বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করেন ইসির সচিব মো. হুমায়ুন কবীর খোন্দকার। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে চলমান বিধিনিষেধের মেয়াদ বাড়ানোর কারণে আপাতত ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেনি নির্বাচন কমিশন।

তিনি বলেন, কমিশন লক্ষ্মীপুর-২, সিলেট-৩, ঢাকা-১৪ ও কুমিল্লা-৫ শূন্য আসনে উপনির্বাচন মধ্য জুলাইয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে আগামী দুই জুন কমিশন সভায় এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। স্থগিত ভোটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসব নির্বাচনের বিষয়েও ২ জুন কমিশন সভায় বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বৈঠকের কার্যপত্রে দেখা গেছে, লক্ষ্মীপুর-২ সংসদীয় আসন, ষষ্ঠ ধাপে ১১ পৌরসভা ও প্রথম ধাপে ৩৭১ ইউপিসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে গত ১১ এপ্রিল ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। করোনাভাইরাস সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ১ এপ্রিল এসব নির্বাচন স্থগিত করা হয়। এতে বলা হয়, প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ মে মাসে শেষ হয়ে যাচ্ছে। আর ১১টি পৌরসভার মেয়াদ জুনের প্রথমার্ধে শেষ হবে।

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের নির্বাচনের মেয়াদ শেষ হবে ২৬ জুলাই। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, মেয়াদ বিবেচনা করে এসব নির্বাচন জুন মাসেই আয়োজনের বিষয়ে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি।

এ বিষয়ে প্রস্তুতি নিতে কমিশন সচিবালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী দুই বা তিন জুন অনুষ্ঠেয় কমিশন সভায় এসব নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে।

আরও জানা গেছে, দেশে প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অর্ধেকের বেশির মেয়াদ জুলাই মাসে শেষ হবে। এসব নির্বাচন জুলাই মাসেই শেষ করার প্রস্তুতি নিতে কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে ইসি সচিবালয়কে বলা হয়েছে। বৈঠকে আগস্টে ইসি কোনো ভোটের আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত হয়।

ইসির ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক : জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুরা পৌরসভা নির্বাচনে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে নির্বাচনের ফলাফল রিটার্নিং কর্মকর্তা ঘোষণার পর ওই নির্বাচনে অনিয়মের প্রমাণ পেলে সেই নির্বাচন বাতিল করার ক্ষমতা ইসির আছে কিনা- সেই বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন নির্বাচন কমিশনাররা। বৈঠকে আলোচনা হয়, ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরও তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আলোকে ওই নির্বাচন বাতিল করা হয়। সেখানে আবারও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অপরদিকে রায়পুরা পৌরসভা নির্বাচনে অনিয়ম প্রমাণিত হওয়ার পরও সেটির গেজেট প্রকাশ করা হচ্ছে। একই কমিশন দুই নির্বাচনে দুই ধরনের সিদ্ধান্ত নিল। বৈঠকে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী বৈঠকে কমিশনের ক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরেন।

তখন নির্বাচন কমিশনার রফিকুল ইসলাম ও সিইসি কেএম নূরুল হুদা ফল প্রকাশের পর নির্বাচন বাতিলের এখতিয়ার কমিশনের নেই বলে জানান। নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বিষয়টি স্পষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে বিষয়টি কমিশনের পরবর্তী সভায় আলোচনার জন্য রাখা হয়। ওই সভায় এ বিষয়ে কার্যপত্র তৈরি করতে ইসি সচিবালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়।

 

সূত্র: যুগান্তর

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close