আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে এগিয়ে ইমরানের দল, ভোট কারচুপির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক বার্তা : পাকিস্তানের ১১তম জাতীয় নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষে এখনও চলছে গণনা। দেশটির গণমাধ্যম ডনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার ১২ ঘণ্টা পরও মাত্র ৪৭ শতাংশ ভোট গণনা হয়েছে। এর মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ১১৪টি আসন পেয়ে এগিয়ে রয়েছে সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের দল পিটিআই (পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ)। ৬৪টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)। দুর্নীতির মামলায় শরিফ কারাগারে থাকায় দলের বর্তমান প্রধান হলেন তারই ভাই ও পাঞ্জাবের তিনবারের মুখ্যমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। এ ছাড়া ৪২ আসন পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সাবেক প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির (বেনজির ভুট্টোর স্বামী) দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি।

বৃহস্পতিবার ভোরে পিটিআই ছাড়া অন্যান্য দলগুলো ব্যাপক ভোট কারচুপির অভিযোগ এনেছে। যদিও নির্বাচন কমিশন বলছে, টেকনিক্যাল সমস্যার কারণে ভোট গণনায় দেরি হচ্ছে।

এদিকে, দল এগিয়ে থাকায় আনন্দ-উল্লাস শুরু করেছে পিটিআইয়ের নেতাকর্মীরা। যদিও চূড়ান্ত ফল এখনও পাওয়া যায়নি। তাছাড়া দলীয় প্রধান ইমরান খান এখনও জয়ের কথা বলেননি কিংবা টুইটারে এ সংক্রান্ত কোনো পোস্টও দেননি।

তবে ইমরানের মুখপাত্র নাঈমুল হক বলেছেন, বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বেলা ২টায় দলীয় প্রধান ‘জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ’ দেবেন এবং তার দলকে ব্যাপকভাবে সমর্থন করায় দেশবাসীকে ধন্যবাদ দিবেন।

বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, গ্যালাপ পাকিস্তানের জরিপ মতে বুধবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। যা প্রায় ২০১৩ সালের নির্বাচনের মতোই। বুধবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ভোটে দেশটির সাড়ে ১০ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগ করার কথা।

গতকাল ভোট চলাকালেই দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কুয়েত্তায় একটি ভোটকেন্দ্রে আত্মঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩১ জন নিহত ও ২০ জন আহত হয়। হতাহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যও রয়েছে।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তানের এবারের নির্বাচনের শুরু থেকেই অভিযোগ রয়েছে যে, দেশটির সেনাবাহিনী, বিচার বিভাগ ও আমলারা ইমরান খানকে সমর্থন দিচ্ছে। অভিযোগ এমন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকে যে, এক পর্যায়ে সেনাবাহিনীকে সংবাদ সম্মেলন করে বলতে হয়- এই নির্বাচনে তারা হস্তক্ষেপ করছে না।

উল্লেখ্য, দেশটির চারটি প্রদেশে ৮৫ হাজার ৩০৭টি পোলিং স্টেশনে ভোটগ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে ১৭ হাজার কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। আইনি জটিলতার কারণে ৮টি আসনে ভোটগ্রহণ স্থগিত করেছে ইলেকশন কমিশন অব পাকিস্তান (ইসিপি)।

ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি ও প্রাদেশিক পরিষদে মোট ৮৪৯টি আসনের বিপরীতে ১২ হাজার ৫৭০টি জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে। এর মধ্যে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলির ২৭২টি আসনে সরাসরি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। আর ৭০টি আসন সংরক্ষিত রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি নারী এবং ১০টি সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত। ১৭২টি আসনে বিজয়ী হলে কোনো দল সরকার গঠন করতে পারবে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close