সারাদেশ

টঙ্গী এসি ল্যান্ড অফিসে দলিল ঘষা-মাজা করে নামজারি!

ঘুষ না পেলে কাগজপত্র সরিয়ে নেয়ার অভিযোগ

বার্তাবাহক ডেস্ক : টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ড অফিসে দলিল টেম্পারিংয়ের (ঘষা-মাজা করে তথ্য পরিবর্তন) মাধ্যমে নামজারির ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে কাশিমপুরের পূর্ব বাগবাড়ী এলাকার শাহানাজ আক্তারের নামজারির অনুমোদন দেন এসি-ল্যান্ড শারমিন আরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এক দালালের মাধ্যমে শাহানাজ দলিল টেম্পারিং করে নামজারির আবেদন করেছিলেন। কিন্তু মূল দলিল পরীক্ষা না করেই নামজারির ওই আবেদন মঞ্জুর করেন এসি ল্যান্ড শারমিন আরা। কাশিমপুর ভূমি অফিস ও এসি ল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তারা দলিল টেম্পারিংয়ের বিষয়টি জানতেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, এসি ল্যান্ড অফিসে দলিল টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে নামজারির যেমন ঘটনা ঘটে, তেমনি ঘুষ না পেলে ফাইল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরিয়ে নামজারি বাতিলের ঘটনাও ঘটে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই সার্ভেয়ার আবদুস সাত্তার এবং এসি ল্যান্ড শারমিন আরার ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দালাল নজরুল ইসলাম কাগজপত্র সরিয়ে নেন বলে জানা গেছে।

কাশিমপুর ভূমি অফিস সূত্র জানায়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে নামজারির আবেদন করেন পূর্ব বাগবাড়ীর শাহানাজ আক্তার। জমির দলিলে এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে স্বামীর নাম ভিন্ন হওয়ার কারণে তিনি আবেদন করতে পারছিলেন না। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য তিনি স্থানীয় দালাল আবু আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। নামজারির জন্য তিনি দালাল আজাদের সঙ্গে এক লাখ টাকায় চুক্তিবদ্ধ হন। পরে আজাদ দলিল ঘষা-মাজার আশ্রয় নিয়ে তথ্য পরিবর্তন করে নামজারির আবেদন করেন। কাশিমপুর ভূমি অফিসে শাহানাজ আক্তারের নথির নম্বর ১৪৫০। চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি এসি ল্যান্ড শারমিন আরা ওই নামজারি করে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, কাশিমপুর ভূমি অফিসের কর্মকর্তা আখতার হোসেন শুরু থেকেই দলিল ঘষা-মাজা বা জালিয়াতির বিষয়টি জানতেন। তারপরও তিনি নামজারির প্রস্তাব করে এসি ল্যান্ড অফিসে ফাইলটি পাঠান। এসি ল্যান্ড অফিসের সার্ভেয়ার আবদুস সাত্তার ও কানুনগো মোবারক উল্যার সঙ্গে দালাল আবু আজাদের সুসম্পর্ক থাকায় কোনো ধরনের পরীক্ষা ছাড়াই শাহানাজ আক্তারের ফাইলটি এসি ল্যান্ডের কাছে তুলে ধরা হয়। আর এসি ল্যান্ড শারমিন আরা মূল দলিল পরীক্ষা না করে শাহানাজ আক্তারের জমির নামজারি করে দেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দালাল আবু আজাদ বলেন, ‘আমি শাহানাজ আক্তার নামে কাউকে চিনি না।’ তবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কন্ট্রাক্ট নিয়ে জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে দেয়ার কথা স্বীকার করেন আবু আজাদ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, আবু আজাদ বিভিন্ন জায়গায় সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বেড়ান। এসি ল্যান্ড অফিসের দালাল আলমগীর হোসেনের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কন্ট্রাক্ট নেন। দলিল ঘষা-মাজা করে বিভিন্ন বিষয় পরিবর্তন করার ক্ষেত্রে তিনি সিদ্ধহস্ত। শাহানাজ আক্তারের দলিল স্ক্যান করে প্রযুক্তির সহায়তার স্বামীর নাম পরিবর্তন করেন তিনি। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কাশিমপুরের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আখতার হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে দেখব।’

জানা যায়, কাশিমপুরের শৈলডুবী গ্রামের সাইফুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তির নামজারির প্রস্তাব কাশিমপুর ভূমি অফিস থেকে এসি ল্যান্ড অফিসে পাঠানো হয়। কাশিপুর ভূমি অফিস থেকে নথিটি এসি ল্যান্ড অফিসে পাঠানোর সময় প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্রের ফটোকপি দেয়া হয়। কিন্তু এসি ল্যান্ড অফিস পর্চা নেই উল্লেখ করে নামজারির আবেদনটি বাতিল করে দেয়।

কাশিমপুর ভূমি অফিস সূত্র জানায়, কয়েক মাস আগে পূর্ব বাগবাড়ী মৌজার আবদুল বারেকের নামজারির আবেদন বাতিল করে এসি ল্যান্ড অফিস। বাতিল করার কারণ হিসেবে বলা হয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। ফাইল সরিয়ে নেয়ার বিষয়ে এক দালাল যুগান্তরকে বলেন, ঘুষ না পেলে নথি থেকে কাগজপত্র সরিয়ে ফেলেন এসি ল্যান্ড অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং দালালরা। আর নজরুল ইসলাম নামে এক দালাল নিজেই এসি ল্যান্ডের ফাইল আনা-নেয়া করেন। ওই সময় তিনি ফাইল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজ সরিয়ে ফেলেন।

এ বিষয়ে জানতে টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের এসি ল্যান্ড শারমিন আরার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মেসেজ পাঠিয়েও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে মঙ্গলবার তিনি বলেন, তিনি কোনো অনিয়ম-দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত নন।

ঘুষ না পেলে নথি থেকে ডমুমেন্টস সরিয়ে নেয়ার অভিযোগের বিষয়টি আবদুস সাত্তার অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, আমি ঘুষ-দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই।

এ সংক্রান্ত আরো জানতে….

টঙ্গী রাজস্ব সার্কেলের এসি ল্যান্ড শারমিনের পদায়নেই ‘ঘাপলা’

টঙ্গী এসি-ল্যান্ড অফিসে দালালদের ‘রাজত্ব’

টঙ্গী এসি ল্যান্ড অফিসে ‘জুয়াড়ি সিরাজের’ নেতৃত্বে সক্রিয় শক্তিশালী চক্র

সূত্র: যুগান্তর

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close