সারাদেশ

যত্রতত্র পার্কিংয়ে যানজটে স্তব্ধ গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা

বার্তাবাহক ডেস্ক : নিত্য যানজটে স্তব্ধ গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। চৌরাস্তার চারদিকে প্রতিদিনই থাকে দীর্ঘ যানজট। থাকে গাড়ির লম্বা লাইন। কখনো কখনো মোড় পার হতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই-আড়াই ঘণ্টা। চান্দনায় যানজটের অন্যতম কারণ মহাসড়কের এই মোড়ে যত্রতত্র পাকিং করা থাকে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ ও অন্যান্য মালবাহী যান।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, পার্কিংয়ের জন্য নিয়মিত চাঁদাও তোলা হচ্ছে শ্রমিকদের কল্যাণের নাম ভাঙিয়ে। চান্দনা চৌরাস্তার পথচারী, স্থানীয় ব্যবসায়ী, পরিবহন চালক, শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

গাজীপুর মহানগরের পণ্যবাহী পরিবহনের কোনো নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায়, বাধ্য হয়ে মহাসড়কের ওপর পার্কিং করতে হচ্ছে বলে স্বীকার করেন চালক ও শ্রমিকরা। গাজীপুর মহানগরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় কমপক্ষে এক হাজার ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ রয়েছে বলে জানান তারা।

স্থানীয়রা জানান, মহাসড়কের পাশে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ পার্কিং করার প্রচলন আগে থেকেই রয়েছে। তবে সেটিকে একটি মহল টাকার লোভে জায়গা বাড়ানোর জন্য দখল করে নিচ্ছে সড়কের অংশ। আগে সড়কের পাশে পার্কিং করা হত আর এখন সড়কের ওপর পার্কিং করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রকৌশল বিভাগ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কটি সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগকে হস্তান্তরের পর থেকেই মহাসড়কে ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ পার্কিংয়ে জবরদখল দৃশ্যমান হয়ে উঠে।

ট্রাক চালক আব্দুল কাদির বলেন, অনেক আগে থেকেই গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতারা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরীর পার্কিংয়ের জন্য জায়গা বরাদ্দ দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু অদ্যবধি কোনো জায়গা দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই সড়কে পাকিং করা হচ্ছে।

চালক হাবিব বলেন, মহানগরের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সড়কের পাশের ড্রেন থেকে ময়লা আবর্জনা তুলে ফেলে রাখে। সেগুলো পথচারীদের চলাফেরার মাধ্যমেই সরে যায়। আবর্জনাগুলো বৃষ্টিতে কাদা হয়। আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলোবালিতে সয়লাব হয়। যে কারণে পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকে। এ অবস্থায় সড়কের পাশে পাকিংয়ের সুযোগ না থাকায় সড়ক দখলের ঘটনা ঘটছে।

দক্ষিণ সালনা এলাকার শ্যামলী গার্মেন্টস লিমিটেডের কাটিং সুপারভাইজার জামিল বলেন, মালামাল বহনকারী পরিবহন রাখার জায়গাতো সড়কের পাশে বা ওপরে নয়। এগুলো সড়কের ওপরে রাখার কারণে ফুটপাত দিয়ে পথচারী চলাচল করতে পারে না।

পথচারী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, তিনি ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে দক্ষিণ সালানায় আসার পথে প্রায়ই যানজটে আটকা পড়েন। সড়কের ঢাকামুখী লেনটিতে প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এসেছেন।

স্থানীয় খাদ্য বিক্রেতা জাহিদ হোসেন বলেন, অনেক সময় উল্টোপথে যানবাহন আসার প্রয়োজন পড়ে। সেসময় সড়কে পার্কিং করা যানবাহনের কারণে সড়কের চাপ পড়ে ফুটপাতের ওপর। ফলে যত দুর্ভোগ পথচারীদের।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন চালক, শ্রমিক বলেন, প্রতি মাসে গাড়ি প্রতি ২শ’ টাকা চাঁদা দিতে হয়। মালামাল লোড আনলোডের জন্য গাড়ির প্রকৃতিভেদে ২০ থেকে ১০০ টাকা চাঁদা দিতে হয়।

এ বিষয়ে গাজীপুর জেলা ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোতালেব টাকা উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরীর জন্য নির্ধারিত স্ট্যান্ড না থাকায় আগে থেকেই পরিবহনগুলো এখানে পার্কিং করতো। সেই থেকে এখনো পার্কিং হচ্ছে। তবে চাঁদা উত্তোলনের কোনো বিষয় এখানে নেই। আমরা এ বিষয়ে কিছু জানিও না।

গাজীপুর সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ডি এ কে নাহীন রেজা বলেন, সড়কের ওপর ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকাপ, ট্যাঙ্কলরী পার্কিংয়ের কোনো অনুমতি তো দূরের কথা, সুযোগও নেই। মহাসড়কের ওপর এগুলো পার্কিং করে দুর্ভোগ তো সৃষ্টি করছেই, উপরন্তু সড়কে আবর্জনা ফেলায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে। বিভিন্ন সময় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে এসব উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু পরক্ষণেই যে যার মতো পাকিংয়ে সড়ক দখলের প্রতিযোগীতায় নেমে সৃষ্টি করে দুর্ভোগ।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close