সারাদেশ

ভূমি অধিগ্রহণের কোটি টাকা আত্মসাৎ: অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকসহ ১৪ জনের নামে মামলা

বাঁধন প্রধান, পঞ্চগড় : পঞ্চগড়ে সারের আপৎকালীন মজুতের গুদাম (বাফার স্টক) নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণের নামে কোটি টাকা আত্মসাৎের অভিযোগ উঠেছে অধিগ্রহণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

এ ঘটনায় পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. গোলাম আযম, সহকারী কমিশনার, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বিসিআইসি’র বাংলাদেশ সার অ্যাসোসিয়েশনের পঞ্চগড় জেলা শাখা ও পঞ্চগড় চেম্বারের সভাপতি মো. হান্নান শেখ ও অতুল চন্দ্রসহ ১৪ জনকে বিবাদী করে ভূমির মালিক জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে আদালতে তিনটি মামলা দায়ের করেছে।

গত সোমবার পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. জাহাঙ্গীর আলম জাল-জালিয়াতির কাগজ তৈরি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তদন্তে সিআইডিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বিবরণে জানাযায়, বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন ঢাকা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে পঞ্চগড়ে বাফার সার গুদাম নির্মাণের জন্য ১৩ কোটি ৬০ লাখ ৪০ হাজার টাকা সরকারিভাবে বরাদ্দ দেয়। এরপর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসকের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা (এলএ) পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কের বোদা উপজেলার গাইঘাটা মৌজায় স্থানীয় মোট ৩.৯১৮০ একর জমি চূড়ান্ত করে। এর মধ্যে স্থানীয় সার ব্যবসায়ী মো. হান্নান শেখেরই ২.৫৪ একর জমি কাগজপত্রে অধিগ্রহণ করা হয়।

মামলার কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট মো. মাহাফুজ হোসেন রূপক অভিযোগ করে বলেন, ওই ব্যবসায়ী হান্নান শেখের দাখিলকৃত এলএ কেস নথিতে দেখা যায় যে, বোদা সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ২০১৭ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রেজিস্ট্রিকৃত একটি দলিল মূলে তিনি ১০ শতক জমি মাজেদুর রহমান গং নামের দাতাদের কাছ থেকে ক্রয় করেছেন। কিন্তু বাস্তবে ওই তারিখে ওই নামে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে কোনো দলিলই রেজিস্ট্রি হয়নি।

অপরদিকে ওই দলিলের ভিত্তিতেই ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর এক দিনে শুনানি, খসড়া ও চূড়ান্ত খারিজ খতিয়ানও প্রস্তুত করা হয়েছে। অথচ দেখা যাচ্ছে ওই তারিখটি ছিল শুক্রবার বা সরকারি ছুটির দিন, যা সম্পূর্ণরূপে বেআইনি।

এছাড়াও নথিপত্র পর্যালোচনা করে আরও দেখা যায় যে, অধিগ্রহণকৃত দাগের সব জমি খরিদ না করা সত্ত্বেও হান্নান শেখকে ওই সব দাগের ক্ষতিপূরণের টাকা দেয়া হয়েছে।

এদিকে ধারা ও সার্ভেয়ারের রির্পোটে দিনাজপুরের চুড়িপট্টি এলাকার মো. আইনুল হকের নাম উল্লেখ থাকলেও তার নাম বাদ দিয়ে ৭ ধারার টাকা দেয়ার নোটিশে ওই ব্যবসায়ীর শ্যালক মো. খোরশেদ আলমের নামে ৪৭ লাখ ৪১ হাজার ৭শ’ টাকা প্রদানের নোটিশ ইস্যু হয়। এরপর এলএ শাখা থেকে ব্যবসায়ী হান্নান শেখ ৬৭ লাখ ৪৪ হাজার ২৮৫ টাকা ও তার শ্যালকের নামে ৪৭ লাখ ৪১ হাজার ৪৫২ টাকা একই দিন একই সিরিয়ালে দুটি চেকের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছে।

জানা যায়, এ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিকে প্রদান করা হয়েছে সর্বমোট ৪ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার টাকা।

অভিযোগে আরও জানা যায়, বিসিআইসি’র সারের বাফার গুদাম নির্মাণ প্রকল্পে পঞ্চগড় এলএ শাখার সার্ভেয়ার রমজান আলী কানুনগো আবদুল কাইয়ুম খানের সঙ্গে যোগসাজশে অস্তিত্বহীন ভুয়া দলিল তৈরি করে ও সরকারি ছুটির দিনে ওই জমি খারিজ দেখিয়ে এবং সর্বোপরি তুলনামূলক কম মূল্যের জমিকে ৩-৪ গুণ বেশি মূল্যে অধিগ্রহণ করে সরকারের বিপুল পরিমাণ টাকা লুটপাট করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বর্তমানে সার্বিক মো. গোলাম আযমের সঙ্গে সাংবাদিকদের পক্ষথেকে যোগাযোগ করলে তিনি দাবি করেন, নিয়ম মেনেই জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে এবং অধিগ্রহণে কোনো দুর্নীতি-অনিয়ম হয়নি।

ব্যবসায়ী মো. হান্নান শেখের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এ ব্যাপারে কোনো কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close