সারাদেশ

কেন্দ্রীয় কারাগারের নির্মাণাধীন ফটকের ছাদ ভেঙে আহত ৯

বার্তাবাহক ডেস্ক : কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের একটি নির্মাণাধীন ফটকের ছাদ ভেঙে পড়ে নয় শ্রমিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর। আহত শ্রমিকদের স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

রোববার সকাল পৌনে নয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহত শ্রমিকেরা হলেন মো. ইব্রাহিম (৪০), ফারুক হোসেন (২৫), মঈন উদ্দিন মিয়া (২২), মো. রবিউল (২০), ইউনুছ মিয়া (২৫), মেরাজ হোসেন (২৭), আবদুর রাজ্জাক (৩০), হারুন অর রশিদ (২৮) ও সিরাজুল ইসলাম (২৬)। এঁদের মধ্যে মো. ইব্রাহিম ও সিরাজুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিরা জানান, সকাল পৌনে নয়টার দিকে কারাগারের প্রবেশপথের ফটক নির্মাণের কাজ চলছিল। হঠাৎ ফটকের ছাদ ভেঙে পড়ে। এতে চাপা পড়েন শ্রমিকেরা। পরে কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দুই ইউনিটের কর্মীরা এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারারক্ষী জানান, সপ্তাহখানেক আগে নির্মাণাধীন এই কারাফটকের ছাদ ঢালাই দেওয়া হয়। ছাদের নিচে কাঠ ও বাঁশ দিয়ে ঠেকা দেওয়া ছিল। তবে নিম্নমানের ইট, সিমেন্ট, বালুসহ বিভিন্ন মালামাল ব্যবহার করায় ছাদটি ভেঙে পড়েছে।

জানা গেছে, কারাগারের প্রবেশপথের ফটক নির্মাণকাজটির দায়িত্বে রয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স মমতাজ ইঞ্জিনিয়ারিং। এ প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. রনি।

মেসার্স মমতাজ ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. কাউছার বলেন, গত বৃহস্পতিবার ফটকের ছাদটি ঢালাই দেওয়া হয়েছিল। কী কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তা ছাড়া নির্মাণকাজে উন্নত মানের টেকসই মালামাল ব্যবহার করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ইনচার্জ সজীব সরকার বলেন, ‘সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আমরা সংবাদ পাই কারাগারের ফটকের ছাদ ভেঙে পড়েছে। তৎক্ষণাৎ দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সাতজন নির্মাণশ্রমিককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ছাদের নিচে এখনো কেউ চাপা পড়ে রয়েছেন কি না, সেটা দেখা হচ্ছে।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার ইকবাল কবীর চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কী কারণে ফটকের ছাদ ভেঙে পড়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close