আলোচিতশিক্ষা

চরিত্র এবং ফলাফল দুটই বিতর্কিত, তবুও ইবিতে শিক্ষক হিসাবে নিয়োগ!

আলোচিত বার্তা : আতিফা কাফি। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক বিতর্কিত ছাত্রী। ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতার গড়ে তোলার মাধ্যমে ফলাফল ভালো করার অভিযোগ রয়েছে আতিফার বিরুদ্ধে। বিভাগীয় সভাপতি এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সাথে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে তার। চরিত্র এবং ফলাফল দুটই বিতর্কিত হলেও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ডেভোলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক হিসাবে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনি।

আতিফা কাফি নামের ওই প্রার্থী জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি সিরাজগঞ্জ জেলা সদরে। বিশেষ সম্পর্ক করে রেজাল্ট তৈরীর অভিযোগে তার বিরুদ্ধে ইতোপূর্বেও সংবাদ প্রকাশিত হয়ছে। এই অভিযোগের কারণে আরো একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নিয়োগ হয়নি বলে জানা যায়। এমন বিতর্কিত ছাত্রীকে ইবিতে শিক্ষকা হিসাবে নিয়োগ পাওয়ায় নতুন এই বিভাগটিকে শুরুতেই বিতর্কের বোঝা বইতে হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞ মহল।

জানা যায়, জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের তৎকালিন সভাপতি এবং পরীক্ষা কমিটির সভাপতির সাথে বিশেষ সম্পর্ক গড়ে তোলে আতিফা। আর এই সম্পর্ককে পূজি করে আতিফা শিক্ষকদের কাছ থেকে নিজের ইচ্ছা মতো ফলাফল আদায় করে নেয়। সে অনার্সে ১১তম মেধা তালিকায় থাকলেও মাস্টার্সের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ও বিভাগিয় সভাপতির সাথে বিশেষ সম্পর্কের বরকতে মেধাতালিকার শীর্ষে উঠে আসে। সম্পর্কের দুর্বল পয়েন্ট কাজে লাগিয়ে শিক্ষককে জিম্মি করে ১ম হয়েছে বলে বিভাগের সহপাঠিদের অভিযোগ। সহপাঠিরা অভিযোগ করেন, স্যার আতিফার সাথে সম্পর্ক করে আমাদের নম্বর কমিয়ে দিছে। আর আতিফাকে প্রথম করতে যা যা করা দরকার; তা সবই করেছে।

এনিয়ে জাবির উপাচার্য বরাবর একটি প্রতিবাদলিপিও দিয়েছিল আতিফার সহপাঠিরা। আতিফা বিতর্কিত রেজাল্ট নিয়ে ভুক্তভুগি সহপাঠিরা খাতা পূনর্মূল্যায়নের দাবিতে উপাচার্য বরাবর একটি লিখিত আবেদন করেন। এর প্রেক্ষিতে গত ৯-১১ মার্চ ‘পছন্দের ছাত্রীকে প্রথম বানাতে শিক্ষকের কেরামতি’ শীর্ষক শিরনামে একাধিক সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়।

সূত্র জানায়, পিএ ৫০১ কোর্সে শুধুমাত্র ওই ছাত্রীই ‘এ প্লাস’ পায়। কিন্তু তার পরের অবস্থানের শিক্ষার্থীদের ওই কোর্সে ‘এ মাইনাসে’র বেশি দেওয়া হয়নি। এছাড়া তার এসএসসিতে ৪.১৩ এবং এইচএসসি তে জিপিএ ৫ রেজাল্ট রয়েছে ওই ছাত্রীর।

এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সভপতি ড. জেবুন্নেসা বলেন, ‘আমি নিজে বিষয়টাকে বিতর্কিত মনে করে একটি তদন্ত কমিটি চেয়েছি। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন আছে। ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থের কথা চিন্তা করে বিষয়টাকে সুরাহা হওয়া প্রয়োজন।’

ইতোপূর্বে আতিফাকে বিতর্কিত চরিত্র এবং রেজাল্টের কথা বিবেচনা করে নিয়োগ দেওয়া হয়নি সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের মঙ্গলের স্বার্থে ওই প্রার্থী সম্পর্কে জানার পরে আমরা তাকে নিয়োগ দেয়নি।’

ইবি ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর রশিদ আসকারী বলেন, ‘বিতর্কের বিষয়ে যথাযোথ প্রমাণ পেলে তা আমলে নেবে ইবি প্রশাসন।’ তিনি আরো বলেনও, ‘নিয়োগ প্রকৃয়া চূড়ান্ত হলেও যদি কারো বিরুদ্ধে যে কোন ধরণের অনিয়ম প্রমাণিত হয় তবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে শতভাগ দুর্নীতি মুক্ত ঘোষণা করতে চাই।’

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close