আলোচিত

বিশ্বের বৃহত্তম ভারতীয় ভিসা সেন্টার কেন ঢাকায় হলো?

আলোচিত বার্তা : ভারতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি যাচ্ছেন বাংলাদেশ থেকে। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ১৪ জুলাই, শনিবার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র উদ্বোধন করা হয়েছে ঢাকায়। সে সময় উপস্থিত ছিলেন দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

ঢাকার বিলাসবহুল শপিং মল যমুনা ফিউচার পার্কে সাড়ে ১৮ হাজার বর্গফুটের মতো বিশাল জায়গায় এই ভিসা কেন্দ্রটি তৈরি করা হয়েছে। এটি চালুর সঙ্গে সঙ্গে দুই ধাপে ঢাকার অন্যান্য ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে।

নতুন ভিসা কেন্দ্র দেখতে অনেকটা পাঁচ তারকা হোটেলের লবির মতো। এই কেন্দ্রে রয়েছে ৪৮টি কাউন্টার, চা-কফির জন্য ভেন্ডিং মেশিন, হালকা খাবার-দাবার বিক্রির স্টল এবং বয়স্ক ব্যক্তি ও নারীদের জন্য আলাদা কাউন্টার।

আগে যেখানে রাস্তাতেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হতো, সেখানে নতুন এই কেন্দ্রে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা সংবলিত আরামদায়ক ওয়েটিং রুম।

কিন্তু বিশ্বের সবচাইতে বড় ভারতীয় ভিসা সেন্টারটি কেন বাংলাদেশে হলো?

আসলে বাংলাদেশিদের এত আদর-যত্নের কারণ হলো ভারতে যত বিদেশি পর্যটক যাচ্ছেন, তার মধ্যে বাংলাদেশিরা শীর্ষে।

বাংলাদেশে ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন, ‘এটা দরকার ছিল। কারণ বাংলাদেশে থেকে যারা আমাদের এখানে আসতে চান, তাদের সংখ্যা প্রচুর বেড়ে গেছে।

আমাদের আগে যে ভিসা সেন্টারগুলো ছিল, তাতে আর কুলাচ্ছিল না। সে জন্য আমাদের নতুন করে এই ভিসা সেন্টার খুলতে হয়েছে। তাতে ভিসা পেতে আরও সুবিধা হবে। এখন সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় আমাদের ভারতে আসেন বাংলাদেশিরা।’

কিছুদিন আগেও ভারতের ভিসা পেতে বেশ ভোগান্তির শিকার হতে হতো বাংলাদেশিদের। গত বছর ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতে সবচেয়ে বেশি বিদেশি পর্যটক যায় বাংলাদেশ থেকে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রকেও ছাড়িয়ে প্রথম অবস্থানে চলে এসেছে বাংলাদেশ। ২০১৬-১৭ সালে বাংলাদেশে ১৫ লাখের মতো ভারতীয় ভিসা ইস্যু হয়েছে।

এর একটি বড় অংশই মেডিকেল ভিসা। মেডিকেল ট্যুরিজম থেকে ভারতের যে আয় হয়, তারও একটি বড় অংশ আসে বাংলাদেশ থেকে যাওয়া চিকিৎসাপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে।

কিন্তু ঢাকার এক ভিসা প্রসেসিং এজেন্ট সাগর আহমেদ বলেন, ‘সবচেয়ে বেশি ভিসা ইস্যু হচ্ছে পর্যটনের জন্য। অনেকে ডাক্তার দেখাতে গেলেও তারাও ওই ট্যুরিস্ট ভিসাই নেয়। কারণ মেডিকেল ভিসায় অনেক কাগজপত্র চায়। ৭০ শতাংশই ট্যুরিস্ট ভিসার জন্য আবেদন করে। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেডিকেল ভিসা। বিজনেস ভিসা সবচাইতে কম, কারণ এটার প্রসেসিং অনেক জটিল।’

ভারতের ভিসা পাওয়ার ভোগান্তি কাটাতে সম্প্রতি অনেক পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন পাঁচ বছর পর্যন্ত ভিসা দেওয়া হচ্ছে। দফায় দফায় পরিবর্তন করা হয়েছে নিয়ম।

আবেদন জমা দেওয়া প্রক্রিয়া সহজ করা, এমনকি বিশেষ উৎসব মৌসুমে বাংলাদেশিদের আকর্ষণ করতে পর্যটকদের জন্য নানা সুযোগ-সুবিধা ও অফারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মধ্যে আছে সীমান্ত চেকপোস্টে উষ্ণ ব্যবহার, চিকিৎসাসংক্রান্ত হয়রানির অভিযোগ জমা নেওয়া, হালাল খাবারের দোকান সম্পর্কে তথ্য দেওয়ার মতো বিষয়গুলো।

পশ্চিমবঙ্গ নেমেছে অন্য প্রদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতায়। বাংলাদেশিরা ভারতে যাচ্ছেন মূলত ঘুরতে, কেনাকাটা করতে ও ডাক্তার দেখাতে।

বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৭ সালে ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে যাওয়ার জন্য ৬০ মিলিয়ন ডলারের বৈদেশিক মুদ্রা কিনেছেন বাংলাদেশিরা, যা আগের বছরের তুলনায় বেশি।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close