খেলাধুলা

যে কারণে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতবে ক্রোয়েশিয়া

খেলাধুলার বার্তা : বিশ্ব মানচিত্রে ১৯৯১ সালে পথচলা শুরু ক্রোয়েশিয়ার। আত্মপ্রকাশের সপ্তম বছরে বিশ্বকাপ ফুটবলের সেমিফাইনালের টিকেট কেটে ফুটবল বিশ্বকে চমকে দেয় ক্রোয়েশিয়া। অবশ্য সেবার ফাইনাল খেলা হয়নি তাদের। তৃতীয় হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

স্বাধীনতার ২৭তম বছরে আবারও ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়েছে এই ক্রোয়েশিয়া। তবে এবার আর সেমিফাইনাল নয়, একেবারেই ফাইনালেরই টিকেট কেটেছে ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বের দেশটি। অথচ চলমান রাশিয়া বিশ্বকাপ শুরুর আগে ফেভারিটদের তালিকাতেও ক্রোয়েশিয়ার নাম রাখেনি কেউ।

কে জিতবে মহারণে? কাদের হাতে উঠবে বিশ্বকাপের সোনালি ট্রফি? দ্বিতীয়বারের মতো ফ্রান্স নাকি প্রথমবারের মতো ক্রোয়েশিয়া? এই প্রশ্নগুলো এখন সব ফুটবল ভক্তের মুখে মুখে। প্রশ্নগুলোর উত্তর জানতে হলে চোখ রাখতে হবে ১৫ জুলাই, মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে।

তার আগে দেখে নেওয়া যাক, কোন তিন কারণে রাশিয়া বিশ্বকাপ জিততে পারে ক্রোয়েশিয়া।

অলৌকিক একতা ও প্রেরণাদায়ী উজ্জীবনী মন্ত্র

প্রধান কোচ জলাতকো দালিচ এক অবিশ্বাস্য কাণ্ডই ঘটিয়েছেন। ২০১৭ সালের ৭ অক্টোবরে ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব নেন দালিচ। গত সাত মাস ধরে দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে একতা জুগিয়েছেন। সবাইকে বিশ্বাস করিয়েছেন, এই দলটাও বিশ্বকাপ জিততে পারে। কোচের মন্ত্রে খেলোয়াড়রাও বিশ্বাস করছে, তারা একটি পরিবার।

বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলনে খেলোয়াড়রাও বারবার এই কথাই বলেছেন। তারা বিশ্বকাপে নিজেদের সত্যিকারের একটি পরিবারের মতোই মনে করছেন। ৫০ দিন ধরে একসঙ্গে আছেন। খেলোয়াড়দের চেষ্টা দেখলেই বোঝা যায়, মাঠে তারা একে অন্যের জন্য প্রাণ দিতে সদা প্রস্তুত।

মাঠে একতাবদ্ধ আর প্রাণপণ উজার করে খেলা–এই দুই মিলিয়ে ফুটবল বিশ্বের মন কেড়েছে ক্রোয়েশিয়া। ফাইনালেও যে তারা ছেড়ে কথা বলবে না, তা একপ্রকার নিশ্চিতই। পুরো দল এক হয়ে খেলা আর কোচের প্রেরণাদায়ক উজ্জীবনী মন্ত্র সব মিলিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপ জেতাটা নিজেদের জন্য প্রাপ্য হিসেবেই বিবেচনা করছে ক্রোয়েশিয়া।

মানসিক শক্তি ও চরিত্র

ডেনমার্ক, রাশিয়া ও ইংল্যান্ড–এদের প্রত্যেকের বিপক্ষেই প্রথমে গোল খেয়ে বসে ক্রোয়েশিয়া। তবে দমে যায়নি ক্রোয়েটরা। পিছিয়ে থেকেও সমতায় ফিরেছিল মড্রিচ-রাকিটিচ-মানজুকিচদের দল। এর মধ্যে দুটি ম্যাচের ফল এসেছে টাইব্রেকারে। এমনভাবে ফিরে আসা ম্যাচে প্রমাণ মেলে, ক্রোয়েশিয়ার মানসিক শক্তি কতটা তীব্র।

তীব্র মানসিক শক্তি যেন তাদের চরিত্রের সঙ্গেই মিশে রয়েছে। ফ্রান্সের বিপক্ষে ফাইনালের মহারণেও এই মানসিক শক্তি ক্রোয়াটদের জন্য বড় এক অস্ত্র। ইতিহাসে যতগুলো দল শিরোপা জিতেছে তারা তাদের দৃঢ় চরিত্র আর মানসিক শক্তির তীব্রতার ধারাবাহিকতা দেখিয়েই শিরোপা হাতে বাড়ি ফিরেছে।

অভিজ্ঞতার সমান আত্মবিশ্বাস

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালের টিকেট কাটা দলটিকে বলা হচ্ছে, সোনালি প্রজন্মের ক্রোয়েশিয়া। আর এই সোনালি প্রজন্মের নেতা লুকা মড্রিচ। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এই তারকা ফুটবলার ছাড়াও ক্রোয়েশিয়ার রয়েছে ইভান রাকিটিচ, পেরেসিচ, মাতেও কোভাসিস, দেজান লভরেন, মানজুকিচদের মতো খেলোয়াড়।

যারা বার্সেলোনা, ইন্টার মিলান, জুভেন্টাস ও লিভারপুলের মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা সব ক্লাবে নিয়মিত খেলে থাকেন। নিজেদের সামর্থ্যও তারা খুব ভালো করেই জানেন ক্রোয়াটরা। ক্রোয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের গড় বয়স ২৭ বছর ১০ মাস। বলা যায়, দারুণ অভিজ্ঞতা এবং আত্মবিশ্বাসের দুর্দান্ত এক মিশেল!

অভিজ্ঞতার সমান আত্মবিশ্বাস–বিশ্বকাপ জিততে আর কী লাগে?

সূত্র: ফিফা

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close