রাজনীতি

নির্বাচন কমিশন প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পণ করেছে

বার্তাবাহক ডেস্ক : সরকারের হুমকির মুখে নির্বাচন কমিশন (ইসি) প্রতিরোধহীন আত্মসমর্পণ করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘বৃহস্পতিবার ইসির সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা-বাহিনীর বৈঠক শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নুরুল হুদার বক্তব্যে উঠে এসেছে– “বিনা ওয়ারেন্টে কাউকে গ্রেফতার করা যাবে না”- এমন নির্দেশনা থেকে সরে এসেছে ইসি।’

শুক্রবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনগুলোও যাতে খুলনা ও গাজীপুরের মতো কারচুপির নির্বাচন হয় তা নিশ্চিত করতে এবং ভোট সন্ত্রাসের নির্বাচন নির্বিঘ্ন করতেই ইসি তার আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘যে দেশে আইনের শাসন নেই সে দেশে আইন প্রয়োগকারী বাহিনীগুলোকে ভোটারদের সঙ্গে নয় বরং সরকারের সঙ্গেই তাল মিলিয়ে চলতে হয়। আগামী নির্বাচনগুলো কোন রং ও রুপ নিয়ে আত্মপ্রকাশ করবে তা এখনই অনুমান করা যায়।’

আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠ্যেয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী সরকারি দলের প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, ‘তাদের মামলা, হামলা ও হুমকির মুখে বিএনপির নেতাকর্মীরা সিটি করপোরেশনের নিজ এলাকার বাইরে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আর গ্রেফতারের হিড়িকতো চলছেই।’

বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনও সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয় দাবি করে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘রাজশাহীতে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নির্বাচনি অনাচারে লিপ্ত কাশিয়া ডাঙ্গা থানার ওসি ও গোয়েন্দা পুলিশের ওসির প্রত্যাহার চাইলেও নির্বাচন কমিশন আকাশের দিকে চেয়ে থাকেন। সিলেটে ধানের শীষের প্রার্থী আরিফুল হককে থানার সামনে অনশন করতে হচ্ছে গ্রেফতার নেতাকর্মীদের মুক্তির দাবিতে। বরিশাল ও রাজশাহীতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে কালো টাকার ছড়াছড়ি চলছে। অস্বাভাবিক টাকা খরচ দৃশ্যমান হলেও সেখানে নির্বাচনি কর্মকর্তারা মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন। ধানের শীষের পোস্টার ছিড়ে ফেলছে, মাইক ভাঙচুর ও সমর্থকদের মারধর করছে। খুলনা ও গাজীপুরের নীতি বাস্তবায়ন করছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

হাইকোর্টের রায় থাকায় মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করা সম্ভব নয় প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘তাহলে তিনি ছাত্রদের তুমুল আন্দোলনের মুখে কোটা বাতিলের কথা কেন বলেছিলেন? তখনতো হাইকোর্টের রায় ছিল। তখন মুক্তিযোদ্ধাদের কথা মনে হয়নি? মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শেখ হাসিনার দরদ লোক দেখানো ছাড়া কিছুই নয়।’

রিজভী আরও বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি ন্যুনতম শ্রদ্ধাবোধ থাকলে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব) অলি আহমেদ বীর বিক্রমের ওপর ছাত্রলীগ যুবলীগকে দিয়ে হামলা করাতেন না প্রধানমন্ত্রী। এ হামলা পরিকল্পিত ও তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা করা হয়েছে।’

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close