রাজনীতি

নেতৃত্ব সংকটে গাজীপুর বিএনপি?

রাজনৈতিক বার্তা : হান্নান-মান্নান-হাসানের পর নেতৃত্ব সংকটের শিকার হচ্ছে গাজীপুর বিএনপি। একবার কোন কমিটি হলে বছরের পর বছর চলে যায়; আর নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয় না। ঘুরে ফিরে পুরনোরাই থাকেন কমিটিতে। তদুপরি একই নেতা ইউনিয়ন ও উপজেলা থেকে শুরু করে জেলা পর্যন্ত একাধিক পদ দখল করে থাকেন।

তবে দীর্ঘ দিন ধরে চলে আসা মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটির কারণে জিমিয়ে পড়া গাজীপুর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনগুলোতে এবার নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ায় নেতাকর্মীদের মধ্যে আবার প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে আসছে।

ইতিমধ্যে জেলা ও মহানগর যুবদলের আংশিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর আগে জেলা ও মহানগর মহিলাদলের কমিটি গঠন করা হয়। অচিরেই মূল সংগঠন বিএনপি ছাড়াও ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবকদলসহ অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের কমিটি গঠন করা হবে বলে দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুর জেলা ছাত্রদলের বিদ্যমান (সরাফত-হান্নু) কমিটি কয়েক প্রজন্ম অতিক্রম করেছে। ফলে দলটি বিগত প্রায় দুই দশক ধরে জেলায় ছাত্র নেতৃত্ব তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে জেলা ও মহানগরিতে ছাত্রদলের কমিটি করার জন্য অবিবাহিত ও ছাত্রত্ব আছে এমন নেতা পাচ্ছে না দলটি। একইভাবে প্রায় ১৬ বছর ধরে জেলা যুবদলের বিদ্যমান কমিটি নতুন কোন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেনি। অন্য অঙ্গ সংগঠনগুলোর বিদ্যমান কমিটির অধিকাংশ সদস্যের মনে নেই তাদের কমিটি বিগত কত সালে গঠন করা হয়েছিল।

জেলা বিএনপির বর্তমান কমিটিও প্রায় ৮ বছর অতিক্রম করেছে। গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠনের পর দুটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও বিএনপি এখন পর্যন্ত মহানগর কমিটিই গঠন করতে পারেনি।

সবেমাত্র তারা মহিলাদল ও যুবদলের আংশিক কমিটি দিতে পেরেছে মহানগরে। বিপরীত দিকে আওয়ামীলীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠনগুলো জেলা ও মহানগরীতে নিয়মিত কমিটি দিয়ে সাংগঠনিকভাবে চাঙ্গা রয়েছে।

বিগ্রেডিয়ার অব. আ.শ.ম হান্নান শাহ’র মৃত্যুর পর জেলা বিএনপি প্রায় অভিভাবকহীন হয়ে পড়ছে।

মেয়র এম.এ মান্নান ও হাসান উদ্দিন সরকার আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত হয়তো যেতে পারেন। এরপর জেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবেলায় বিএনপি এখনো কাঙ্খিত নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেনি।

এদিকে সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে জেলা ও মহানগর বিএনপিতে যখন নতুন নেতৃত্ব তৈরি হচ্ছে না, তখন আওয়ামীলীগ মাত্র গত এক যুগের ব্যবধানে কয়েক ডজন নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। যেখানে আগামী ৫ বছরের মধ্যেই বিএনপিতে নেতৃত্ব সংকট প্রকট হচ্ছে; সেখানে আগামী ১০০ বছরেও আওয়ামীলীগে নেতৃত্ব সংটের সম্ভাবনা নেই। আওয়ামীলীগের যুব ও ছাত্র সংগঠনে ইতিমধ্যে গ্রহণযোগ্য বেশ কয়েকজন নতুন নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। সরাসরি ছাত্রলীগ থেকে আসা জাহাঙ্গীর আলম ২০১৩ সালের সিটি নির্বাচনে মেয়র পদের শক্তিশালী প্রতিদ্ব›দ্বী প্রার্থী ছিলেন। তিনি যে কোন প্রকারেই হোক এবার সিটি করপোরেশনের মেয়রের চেয়ারটি দখল করতে সক্ষম হয়েছেন।

অপরদিকে জেলা ও মহানগর যুবলীগেও একাধিক যোগ্য নেতা তৈরি হয়েছেন। যারা সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় সরকারের যে কোন পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব করতে সক্ষম। অথচ সদ্য অনুষ্ঠিত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বিপক্ষে একমাত্র হাসান উদ্দিন সরকার ছাড়া অন্য কোন যোগ্য ও শক্তিশালী মেয়রপ্রার্থী ছিল না বিএনপির। বিপরিতদিকে আওয়াীলীগের যোগ্যপ্রার্থীর ছিল ছড়াছড়ি। তাদের মধ্যে মূল দল আওয়ামীলীগেই ছিল চার জন ও যুবলীগে ছিল দুই জন মেয়রপদপ্রার্থী। অপেক্ষমান ছিল আরো কয়েকজন।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close