আলোচিত

থেমে আছে বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়কের বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ

আলোচিত বার্তা : বিমানবন্দর-গাজীপুর সড়কে বাসের জন্য পৃথক লেন (বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট বা বিআরটি) নির্মাণ শেষ হওয়ার কথা চলতি বছরের ডিসেম্বরে। যদিও এখন পর্যন্ত প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি সম্পর্কে কোনো তথ্যই দিতে পারেননি প্রকল্প কর্মকর্তারা। টঙ্গীতে একটি সেতু ও গাজীপুরে একটি উড়াল সড়কের সামান্য অংশ ছাড়া সরেজমিন ঘুরে আর কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি।

ঢাকার চারটি ইন্টারসেকশনে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (আইটিএস) স্থাপনের পূর্ত কাজ শুরু হয় গত বছরের ডিসেম্বরে। মহাখালীতে ওই সময় অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শুরু হয়। গত ছয় মাসে মহাখালী ইন্টারসেকশনে দেড় ফুট উচ্চতার কয়েকটি দেয়াল ছাড়া আর কোনো কাজ এগোয়নি।

বিআরটি বাস্তবায়ন হচ্ছে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনার সুপারিশের আলোকে। অন্যদিকে আইটিএস প্রকল্পটি সরাসরি তত্ত্বাবধান করছে সংস্থাটি।

ঢাকার বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত সড়কটিতে হচ্ছে বাসের জন্য পৃথক লেন। বাস লেনের দৈর্ঘ্য ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার। এ লেনে নির্বিঘ্নে যান চলাচলের জন্য নির্মাণ করা হবে ছয়টি উড়াল সড়ক। এর বাইরে বিদ্যমান টঙ্গী সেতুটি সংস্কার করে ১০ লেনে উন্নীত করা হবে। এ লেনে ৫০টি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বাস চালানোর পরিকল্পনা করছে ডিটিসিএ। এজন্য একটি কোম্পানিও (ঢাকা বাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড) গঠন করা হয়েছে। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি নির্মাণে প্রাক্কলিত ব্যয় ২ হাজার ৩৯ কোটি টাকা। যৌথভাবে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ), সেতু বিভাগ (বিবিএ) ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। অর্থায়নে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে রয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।

বিআরটি নির্মাণে ধীরগতির জন্য বর্ষা ও রাস্তায় অতিরিক্ত ট্রাফিককে দুষছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।

অগ্রগতি সম্পর্কে কথা হয় প্রকল্প পরিচালক সানাউল হকের সঙ্গে। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ২২ শতাংশ আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ভৌত অগ্রগতি সম্পর্কে এখনো দেয়ার মতো কোনো তথ্য তার হাতে নেই।

তিনি বলেন, ঈদের (গত ঈদুল ফিতর) কারণে রাস্তায় যানবাহনের চাপ বেশি ছিল। ওই সময় নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার সরকারি নির্দেশনা ছিল। এমনিতেও রাস্তায় অতিরিক্ত ট্রাফিকে নির্মাণকাজ ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে চলমান বর্ষাও নির্মাণকাজ এগিয়ে নিতে বিপত্তি তৈরি করছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বরে যোগাযোগ করা হয়েছিল সানাউল হকের সঙ্গে। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘গত বছরের (২০১৬) জুনে নির্মাণকাজ উদ্বোধন হলেও মূল কাজ শুরু হয়েছে এ বছরের (২০১৭) শুরুতে। এরপর বর্ষা চলে আসায় কাজে তেমন অগ্রগতি হয়নি। এখন পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে।’

আট মাস পর ফের যোগাযোগ করা হলে প্রায় একই কথা বলেন তিনি। এ সময়ে প্রকল্পের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতিও হয়নি। প্রকল্পের কাজ শুরু হয় টঙ্গী সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে। ১০ লেনের এ সেতুর নির্মাণকাজের অগ্রগতি ১০ শতাংশ। গত জানুয়ারিতেও অগ্রগতি সম্পর্কে একই তথ্য দিয়েছিলেন প্রকল্প কর্মকর্তারা। অর্থাৎ গত ছয় মাসে এখানে কোনো কাজই এগোয়নি।

গত বছরের নভেম্বরে বিমানবন্দর এলাকায় একটি টেস্ট পাইলের কাজ চলছিল। সে কাজ এখনো শেষ হয়নি। প্রকল্প কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, টেস্ট পাইল সম্পন্ন করতে লোড টেস্ট এখনো বাকি। তবে এ সময়ে গাজীপুর চৌরাস্তায় একটি উড়াল সড়কের ১৫৫টি পাইলের কাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প কর্মকর্তারা যখন ধীরগতির জন্য নানা যুক্তি দাঁড় করাচ্ছেন, তখন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিআরটি নির্মাণ তেমন জটিল কিছু নয়।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ড. শামছুল হক বলেন, বিআরটির জন্য প্রয়োজন পৃথক বাস লেন। এজন্য বিদ্যমান সড়কের উন্নয়ন ঘটিয়ে আলাদা লেন করে ফেললেই হলো। কাজের ক্ষেত্রে মূল সমস্যা স্টেশন, সেতু ও উড়াল সড়ক। সেগুলোও খুব বেশি জটিল নয়।

অন্যদিকে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়নে পরীক্ষামূলকভাবে বসানো হচ্ছে ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম বা আইটিএস। বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগ ও ডিটিসিএ সূত্রে জানা গেছে, এ ব্যবস্থায় ক্যামেরা (সিসিটিভি) বা রাস্তায় বসানো ভেহিকল ডিটেক্টরের (গাড়ি শনাক্তকরণ যন্ত্র) মাধ্যমে গাড়ির সংখ্যা হিসাব করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে একটি লেন দিয়ে কতগুলো গাড়ি পার হলো, সে হিসাব রাখে এ যন্ত্র। এ অনুযায়ী যে লেনে চাপ বেশি থাকে, সেদিকের গাড়িগুলোর জন্য জ্বলে ওঠে সবুজ সিগন্যাল বাতি। কোনো গাড়ি ট্রাফিক আইন অমান্য করলে সেটিকে শনাক্ত করে। রাস্তায় থাকা পথচারীদেরও হিসাব করে আইটিএস। সে অনুযায়ী সংকেত দেয় পথচারী পারাপারের। সবকিছু নিয়ন্ত্রিত হয় একটি কন্ট্রোল রুম থেকে। প্রাথমিকভাবে এটি গুলশান-১, মহাখালী, পল্টন ও ফুলবাড়িয়ায় স্থাপন করার কথা। এজন্য ব্যয় হবে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে অর্থায়ন করছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা।

গত বছরের ডিসেম্বরে ঢাকার মহাখালী ইন্টারসেকশনে শুরু হয় আইটিএস স্থাপনের কাজ। তখন থেকে গতকাল পর্যন্ত কাজের অগ্রগতি বলতে দেড় ফুট উচ্চতার কয়েকটি দেয়াল। এর বাইরে আর কোনো কাজ হয়নি এ প্রকল্পের। কাজ না হলেও গত বছরের সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দের প্রায় সবটাই (৩৫ কোটি) প্রদান করা হয়েছে।

আইটিএস প্রকল্পের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আইটিএসের জন্য যেসব যন্ত্রপাতি প্রয়োজন, সেগুলো জাইকা সরবরাহ করবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা আমাদের কোনো সরঞ্জাম সরবরাহ করেনি। এ কারণে প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হচ্ছে।

 

 

সূত্র: বণিক বার্তা

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close