আন্তর্জাতিক

গুলি করে দুই সন্তানকে হত্যা করে বাবার আত্মহত্যা

আন্তর্জাতিক বার্তা : অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে গুলি করে দুই কিশোর-কিশোরীকে হত্যার ঘটনায় খুনির লাশ পাওয়া গেছে। চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ডের হোতা নিহত শিশু দুটির বাবা। শুক্রবার সারা দিন এ নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার গণমাধ্যম বিভিন্ন খবর ও মতামত প্রকাশ করেছে। এ ছাড়া অস্ট্রেলিয়াজুড়েই এই মর্মান্তিক মৃত্যু নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন আপামর জনসাধারণ। হতাশা ঝরেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কণ্ঠেও।

স্থানীয় পুলিশ বলছে, ৬৮ বছর বয়সী জন এডওয়ার্ডস নামের এক ব্যক্তি নিজের সন্তানদের গুলি করে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। এ হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ রাতভর সাঁড়াশি অভিযানে নামে। শুক্রবার সকালে হত্যাকাণ্ডের স্থান থেকে কিছুটা দূরে সিডনির নরম্যানহাস্ট থেকে জন এডওয়ার্ডস নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, নিজের সন্তানদের গুলি করে হত্যার পর বাড়ি থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে আত্মহত্যা করেন এডওয়ার্ডস। পুরো ঘটনাটিই ‘পূর্বনির্ধারিত ও পরিকল্পিত’ বলে মন্তব্য করেন সহকারী পুলিশ কমিশনার ব্রেট ম্যাকফ্যাডেন। এডওয়ার্ডসের নামে নিবন্ধিত দুটি বন্দুক তাঁর বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পারিবারিক কলহের কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে।

এর আগেও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য পুলিশের খাতায় নাম ছিল জন এডওয়ার্ডসের। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আগের অপরাধের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার ম্যাকফ্যাডেন। হত্যার ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ম্যালকম টার্নবুল। তিনি বলেন, ‘এটা সত্যিই ভীষণ মর্মান্তিক ও প্রাণঘাতী অপরাধ। দুজন শিশু মারা গেল, তাদের হত্যা করা হলো, আর সেটিও তাদের বাবা করেছে, যিনি নিজেও আত্মহত্যা করলেন। বড়ই মর্মান্তিক।’

বৃহস্পতিবার সিডনির পশ্চিম পেন্যান্ট হিলের হাল রোডের একটি বাড়িতে দুই শিশুকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে। ঘটনার খবর পেয়ে জরুরি সেবা পৌঁছালে ঘটনাস্থল থেকে একটি ছেলে (১৫) ও একটি মেয়ের (১৩) মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার পরপরই সন্দেহের ভিত্তিতে এডওয়ার্ডসের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়। শিশু দুটির মা অক্ষত আছেন। তবে হত্যাকাণ্ডের আকস্মিকতায় তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছেন। তিনি সুস্থ হলেই পুরো ঘটনার বিস্তারিত জানা যাবে বলে আশাবাদী পুলিশ।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close