খেলাধুলা

টাইব্রেকারে স্পেনকে বিদায় করে কোয়ার্টার-ফাইনালে স্বাগিতিকরা

খেলাধুলার বার্তা : ম্যাচ জুড়ে অনেকবারই দলকে বাঁচিয়েছেন ইগর আকিনফিভ। রাশিয়ার গোলরক্ষক টাইব্রেকারেও ফিরিয়ে দিলেন দুটি শট। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের আর কোনো চ্যাম্পিয়ন টিকে থাকল না এবারের আসরে। ইতালি চূড়ান্ত পর্বেই আসতে পারেনি। গতবারের চ্যাম্পিয়ন জার্মানি বিদায় নিয়েছে গ্রুপ পর্বে। এবার দ্বিতীয় পর্ব থেকে ২০১০-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে বিদায় করে কোয়ার্টার-ফাইনালে উঠেছে স্বাগিতিকরা।

মস্কোতে পেনাল্টি শুটআউটে আকিনফিভের নৈপুণ্যে ৪-৩ গোলে জিতে উচ্ছ্বাসে ভাসে রাশিয়া।

আত্মঘাতী গোলে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল স্পেন। তবে বিরতির আগে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরায় স্বাগতিকরা। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে সমতা থাকার পর অতিরিক্ত সময়ে গোল হয়নি আকিনফিভের দৃঢ়তায়।

সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের হয়ে কোকের নেওয়া তৃতীয় শট ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দেন আকিনফিভ। ইয়াগো আসপাসের পঞ্চম শট পা দিয়ে ঠেকিয়ে দেন তিনি। স্বাগতিকদের পঞ্চম শটের প্রয়োজন পড়েনি।

স্বাগতিকদের হয়ে গোল করেন ফিদর স্মলভ, সের্গেই ইগনাশেভিচ, আলেকসান্দার গোলোভিন ও দেনিস চেরিশেভ। স্পেনের হয়ে জালের দেখা পান আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জেরার্দ পিকে ও সের্হিও রামোস।

মস্কোর লুজনিকি স্টেডিয়ামে রোববার রাশিয়া খেলে পাঁচ ডিফেন্ডার নিয়ে। তাদের সেই রক্ষণ ভাঙার জন্য যে সৃজনশীলতা দরকার ছিল তা প্রথমার্ধে অনুপস্থিত ছিল ইসকো-দাভিদ সিলভা-দিয়েগো কস্তাদের খেলায়।

গোলের জন্য কোনো শট নেওয়ার আগেই এগিয়ে যায় স্পেন। দ্বাদশ মিনিটে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন সের্গেই ইগনাশেভিচ।

ডান দিক থেকে মার্কো আসেনসিওর ফ্রি-কিক যেন সের্হিও রামোসকে খুঁজে না পায় সেই চেষ্টায় ব্যস্ত ছিলেন ইগনাশেভিচ। রামোসকে নিয়ে মাটিতে পড়ার সময় অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার পায়ে লেগে জালে জড়ায় বল। কিছুই করার ছিল না রাশিয়ার গোলরক্ষক ইগর আকিনফিভের।

এবারের আসরে এটি দশম আত্মঘাতী গোল।

পায়ে অনেক বেশি সময় বল রাখলেও খুব ভালো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি স্পেন। উল্টো জেরার্দ পিকের ভুলে ৪১তম মিনিটে সমতা ফেরায় রাশিয়া। আলেক্সান্দার সামেদভের কর্নারে হেড করতে লাফিয়ে উঠা পিকের উঁচিয়ে থাকা হাতে পেছন থেকে জুবার হেড লাগলে পেনাল্টির নির্দেশ দিয়েছিলেন রেফারি।

ঠাণ্ডা মাথায় ডান দিক দিয়ে বল জালে পাঠান জুবা। গোলরক্ষক দাভিদ দে হেয়া ঝাঁপিয়েছিলেন উল্টো দিকে।

৬৭তম মিনিটে দাভিদ সিলভার জায়গায় ইনিয়েস্তা মাঠে নামার পর বাড়ে আক্রমণের ধার। ৮৪তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের ভলি শট ঝাঁপিয়ে ঠেকান গোলরক্ষক।

দ্বিতীয় রাউন্ডের প্রথম দুটি ম্যাচ শেষ হয় নির্ধারিত সময়ে। তৃতীয় ম্যাচ গেল অতিরিক্ত সময়ে।

ম্যাচে এক হাজারের বেশি পাস দেয় স্পেন। তার ৯০ শতাংশ পৌঁছায় লক্ষ্যে। কিন্তু গোলের খুব ভালো সুযোগ তৈরির মতো পাস দিতে পারেননি ফের্নান্দো ইয়েররোর শিষ্যরা। অন্য দিকে পেনাল্টি ছাড়া লক্ষ্যে একটি শটও রাখতে পারেনি রাশিয়া।

অতিরিক্ত সময়েও জালের দেখা পায়নি কোনো দল। এবারের আসরে প্রথমবারের মতো ম্যাচ যায় টাইব্রেকারে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close