সারাদেশ

যশোরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগ নেতা নিহত, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

বার্তাবাহক ডেস্ক : যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় পুলিশের সঙ্গে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’ যুবলীগের এক নেতা নিহত হয়েছেন। নিহত ওই নেতার নাম জাহিদ হাসান টোকন (৩০)।

শুক্রবার রাতে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা এলাকার বাগমারা বিলে পুলিশের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ তিনি নিহত হন।

নিহত টোকনের বাবা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গুলি করে টোকনকে হত্যা করেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে পুলিশ বলেছে, পুলিশের গুলিতে নয়, সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ বলছে, নিহত জাহিদ একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের ২৭টি মামলা রয়েছে।

নিহত জাহিদ হাসান ঝিকরগাছা উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের আলী আসলামের ছেলে। তিনি ঝিকরগাছা পৌর যুবলীগের এক গ্রুপের যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

মনিরুল ইসলাম-সমর্থিত ঝিকরগাছা পৌর কমিটির আহ্বায়ক শাওন রেজা বলেন, ঝিকরগাছা পৌর যুবলীগের দুটি আহ্বায়ক কমিটি রয়েছে। একটি কমিটি ঝিকরগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুসা মাহামুদ-সমর্থিত এবং অপরটি যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম-সমর্থিত। জাহিদ হাসান উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মনিরুল ইসলাম-সমর্থিত কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে যশোর শহর থেকে জাহিদ হাসানকে আটক করা হয়৷ এরপর তাঁর স্বীকারোক্তি অনুযায়ী অস্ত্র উদ্ধারের জন্য পুলিশ তাঁকে নিয়ে দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে ঝিকরগাছা উপজেলার কায়েমকোলা এলাকার বাগমারা বিলে যায়। বিলের মধ্যে সড়ক ধরে যাওয়ার সময় জাহিদ হাসানের সহযোগী সন্ত্রাসীরা তাঁকে ছাড়িয়ে নিতে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে। এরপর সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এ সময় জাহিদ হাসান মাথায় গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একটি ওয়ান শুটারগান, একটি গুলি এবং পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়৷

শনিবার দুপুরে যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে কথা হয় টোকনের বাবা আলী আসলামের সঙ্গে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার রাত নয়টার দিকে যশোর শহরের চাঁচড়া এলাকার ভাড়ার বাড়ি থেকে পুলিশ টোকনকে তুলে নিয়ে যায়। রাতে তাঁকে গুলি করে হত্যার পর পুলিশ লাশটি যশোর জেনারেল হাসপাতালে মর্গে রেখে গেছে।

ঝিকরগাছা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ফকির আজিজুর রহমান বলেন, অভিযোগ সত্য নয়। পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহিদ হাসান নিহত হয়েছেন। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ একটি ওয়ান শুটারগান, একটি গুলি ও পাঁচটি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ঝিকরগাছা থানায় হত্যা, অস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদকের ২৭টি মামলা রয়েছে।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close