আলোচিতজাতীয়

গাজীপুরের ভোট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

বার্তাবাহক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন, খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম-জালিয়াতি এবং রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার-হয়রানির খবরে তার দেশ উদ্বিগ্ন।

বাংলাদেশের নির্বাচন অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য হচ্ছে কি না- তার সঙ্গে ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের পরিকল্পনাকেও মিলিয়ে দেখছেন তিনি।

তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র একই গণতান্ত্রিক নীতি ও ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়টিই আমাদের দুই দেশের অবস্থানকে শক্তিশালী করেছে। আর ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য বাংলাদেশের শক্তিশালী অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ।”

বৃহস্পতিবার ঢাকায় কূটনৈতিক প্রতিবেদকদের সঙ্গে এক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের এমন বক্তব্য আসে।

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং খুলনা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বার্নিকাট বলেন, ওই স্থিতিশীলতা কেবল অবাধ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে রক্ষা করা সম্ভব।

“বাংলাদেশ সরকার অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে অঙ্গীকারাবদ্ধ, যেখানে বাংলাদেশের মানুষের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটবে।… বাংলাদেশ সরকার সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে- আমরা সেটাই দেখতে চাই।”

যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই তাদের নতুন ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় পরিকল্পনাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে। যেভাবে তারা ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলকে চিহ্নিত করে আসছে তা যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম উপকূল থেকে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই এলাকার মধ্যে পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষের বসবাস। বিশ্ব অর্থনীতির অর্ধেকের বেশি কর্মকাণ্ড এ এলাকাতেই চলে।

যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক অংশীদার, ঋণদাতা ও বিনিয়োগকারী। বিশ্ব ব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বড় অংশীদার হিসেবেও এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আর নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চল হল সেই এলাকা, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি সমুদ্র সীমা রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্র বেশ কয়েকটি দেশের অবস্থান ভারত ও প্রশান্তমহাসাগরীয় অঞ্চলে। বাংলাদেশসহ এ অঞ্চলের প্রায় প্রতিটি মিত্র দেশের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী নিয়মিত সামরিক মহড়া ও যৌথ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে আসছে।

ডিপ্লোমেটিক করেসপনডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের (ডিক্যাব) অনুষ্ঠানে এসে বার্নিকাট বলেন, বাংলাদেশ সাম্প্রতিক সময়ে যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখিয়েছে, সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হলে গণতান্ত্রিক বাতাবরণ নিশ্চিত করতে হবে, যেখানে সহিষ্ণুতার চর্চা হবে, মানবাধিকার গুরুত্ব পাবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমর্থন পাবে, যা সব নাগরিকের নিজের মত শান্তিপূর্ণ ও দৃঢ়ভাবে প্রকাশের সুযোগ দেবে।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডিক্যাবের এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাত্র দুই দিনের মাথায়, যে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগের মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয় পেয়েছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা প্রকাশ করে আসছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার দাবিতে বিএনপি ও সমমনারা ওই ভোট বর্জন করে। ফলে অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় জয় পান ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরা; আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয়বারের মত ক্ষমতায় আসে। যুক্তরাষ্ট্র ওই নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য বলে মনে করে না।

বার্নিকাট বলেন, “আমরা যখন খুলনা আর গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে প্রশংসা করছি, তখন জাল ভোটে ব্যালট বাক্স ভরার মত অনিয়ম এবং ভোটের আগে ও ভোটের দিন প্রার্থীর পোলিং এজেন্টদের হয়রানির খবর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উদ্বেগও রয়েছে।

“পাশাপাশি বিরোধী দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও পোলিং এজেন্টদের গ্রেপ্তার ও পুলিশি হয়রানির খবর নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন।”

তিনি বলেন, বাংলাদেশ যাতে ক্রমোন্নতির ধারা অব্যাহত রাখতে পারে, সেজন্য যুক্তরাষ্ট্র সহযোগিতা করে যেতে চায়।

আর বাংলাদেশের স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধির জন্য মত প্রকাশের স্বাধীনতা, মুক্ত সংবাদমাধ্যম, স্বাধীনভাবে শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার, গণতন্ত্রায়ণ আর অবাধ, নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এটাও পড়ুন

Close
Close