জাতীয়

শেষ বেলায় দুজনের যত চ্যালেঞ্জ

বার্তাবাহক ডেস্ক : প্রচার শেষ। রাত পোহালেই গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ভোটগ্রহণ। এর আগে দিন-রাত জয় নিশ্চিতে কৌশল আঁটছেন প্রার্থীরা। তবে মেয়র পদে প্রধান দুই দল সমর্থিত প্রার্থীর সামনে রয়েছে শেষ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ। বিএনপি প্রার্থীর অভিযোগ তার নির্বাচনী এজেন্ট ও কর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর পক্ষে কেন্দ্রের নির্দেশে স্থানীয় আওয়ামী লীগ প্রচারে অংশ নিলেও নৌকার জয় নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে না বলে শোনা যাচ্ছে। বর্তমান অবস্থায় বিজয়ী হতে হলে সব কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়া এবং স্থানীয় আওয়ামী লীগের অন্তর্কোন্দল মেটানোই বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থীর শেষ মুহূর্তের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। সেই সঙ্গে ভোট কারচুপির শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বিএনপিপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার গতকাল সাংবাদিকদের বলেন, ধানের শীষের ৫০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এজেন্টদের প্রতিদিন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনে ৪২৫টি কেন্দ্র আছে। থাকছে ২ হাজার ৭৬১টি বুথ। এসব স্থানে নির্বাচনী এজেন্ট নিয়োগ করা একটি বড় দায়িত্ব। অনেক এজেন্টকে ভয় দেখানো হচ্ছে। তাদের মনে সাহস জোগাতে হচ্ছে। নেতাকর্মীদের কাজের সমন্বয় করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

সব কেন্দ্রে ধানের শীষের এজেন্ট দেওয়াই হাসান সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছেন ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটার মো. ফারুক। তিনি বলেন, ধানের শীষের এজেন্ট হবে এমন কেউ বাড়ি থাকতে পারছেন না। তারা অনেক চাপে আছেন। স্থানীয় নৌকা সমর্থকদের পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও হয়রানি করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে কেন্দ্র থেকে জাহাঙ্গীর হোসেনকে মনোনয়ন দেওয়া হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাতে নাখোশ। বিষয়টি বুঝতে পেরে কেন্দ্র থেকে নৌকার জয় নিশ্চিতে সবাইকে একত্রে কাজ করার জন্য বারবার বলা হয়েছে। তাই কেন্দ্রের নির্দেশে প্রচারে অংশ নিলেও জাহাঙ্গীরকে বিজয়ী করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থকরা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন না বলে জানা গেছে। কয়েকটি ওয়ার্ডের ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

গাজীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, গাজীপুর আওয়ামী লীগে কোনো বিভেদ নেই। সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থীকে জেতাতে সবাই কাজ করছেন। একই কথা বলেছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম। কেন্দ্রের নির্দেশে নৌকাকে জেতাতে সবাই একত্রে কাজ করছেন বলে তিনি দাবি করেন।

১৫ নম্বর ওয়ার্ডের জৈনউদ্দিন সরকারের বাড়ির মোড় এলাকার ভোটার দুলাল হোসেন বলেন, নৌকায় উপরে উপরে মিল দেখা গেলেও ভেতরে মিল নেই। তারা এক হলে জয়ের সম্ভাবনা আছে। তবে ভোট সুষ্ঠু হয় কিনা, সেটাও দেখার বিষয়। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন তো তফসিল ঘোষণার সময় বলে ভোট সুষ্ঠু হবে। পরে দেখা যায়, কেমন ভোট হয়।

১৬ নম্বর ওয়ার্ডের আউটপাড়ার বাসিন্দা মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, জাহাঙ্গীর সাহেবের রাজনৈতিক ব্যাকগ্রাউন্ড কী? তিনি কী করেন? ঝুট ব্যবসা। হঠাৎ করে এলো আর মনোনয়ন দিল। যুগ-যুগ ধরে আওয়ামী লীগ করা অনেকে বিষয়টা স্বাভাবিকভাবে নিতে পারেননি। তার পরও কেন্দ্র মনোনয়ন দিয়েছে। কী আর করা।

৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের ছয়দানা এলাকার মো. জুয়েল বলেন, খুলনায় যেমন ভোট হয়েছে, এখানেও তেমন হয় কিনা, সবাই সেটাই ভাবছে। তবে ভোট সুষ্ঠু হলে নীরব বিপ্লব হবে বলে মনে করেন তিনি।

আগামীকাল প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন। এতে মেয়র পদে লড়াই করছেন সাতজন। এই সিটিতে ওয়ার্ড ৫৭টি। মোট ভোটারসংখ্যা ১১ লাখ ৩৭ হাজার। ৪২৫টি কেন্দ্রে বুথসংখ্যা ২ হাজার ৭৬১।

 

সূত্র:আমাদের সময়

আরও দেখুন

এরকম আরও খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Close